প্রথম পাতা ভোট বাংলা আজকের রাশিফল সকালের বাংলা কর্ম সন্ধান পশ্চিম বাংলা বাংলার জেলা ভারতবর্ষ বিশ্ব বাংলা খেল বাংলা প্রযুক্তি বাংলা বিনোদন বাংলা        লাইফস্টাইল বাংলা EXCLUSIVE বাংলা GNE TV
Corona Virusজাতীয়শিক্ষা ও স্বাস্থ্য

সংক্রামক Corona-র দ্বিতীয় তরঙ্গ রূপ নিচ্ছে মহাসংক্রমনের, যদিও Death হার কম

GNE NEWS DESK: করোনা(Corona) সংক্রমন কমার পরে ফের নিচ্ছে ভয়াল রূপ। মিউটেটেড করোনা দ্বিতীয় তরঙ্গ হয়ে সারা দেশে ছড়াচ্ছে। ইতিমধ্যেই দেশে দৈনিক সংক্রমনের হার দুই লাখ ছাড়িয়েছে। রাজ্যে দৈনিক সংক্রমন ৭ হাজারের দোরগোড়ায়। ভারতে করোনার নতুন যে রূপটি দেখা দিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের কথায়, এক জনের দেহ থেকে অন্য জনের দেহে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে ভাইরাসের এই রূপ অন্যান্য নতুন রূপের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয়। সেটাই সবচেয়ে ভয়ের কারন হয়ে উঠেছে।

জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে করোনাভাইরাসের বংশবৃদ্ধির সম্ভাবনা কমতে শুরু করার পর থেকেই ‘মিউটেশন’-এর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। মিউটেশন’ নিয়ে ভাইরাসের নতুন নতুন রূপের জন্ম হয়। আর তার হার বাড়ে নতুন নতুন আশ্রয়দাতা মানুষ বা অন্য উন্নত প্রাণীর দেহে বাসা বাঁধতে পারলে। এই ভাইরাস নিজেদের আরও বেশি সংক্রামক করছে। কিন্তু তাতে মৃত্যুহার অত্যন্ত কম। শুক্রবার রাজ্যে সংক্রমণের সংখ্যা ছিল ৬,৯১০। মৃত্যু(Death) ২৬। অর্থাৎ, আক্রান্তদের মধ্যে ১ শতাংশেরও কম রোগী মারা গিয়েছেন।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে রাজ্যে কোভিডে আক্রান্তদের মধ্যে সার্স-কভ-২ ভাইরাসের মূলত চারটি নতুন রূপের হদিশ মিলেছে। এর মধ্যে শুধু ভারতীয় রূপটির শিকার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। বাকি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ নতুন রোগী শিকার হয়েছেন ভাইরাসটির আরও তিনটি নতুন রূপের। তার একটি ‘ইউকে ভেরিয়্যান্ট’। বছরের শুরুর দিকে এই রূপটির হদিশ প্রথম মেলে ব্রিটেনে। একটি নতুন রূপকে বলা হচ্ছে ‘সাউথ আফ্রিকান ভেরিয়্যান্ট’। যার হদিশ প্রথম মিলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়। দক্ষিণ আফ্রিকান রূপটির ক্ষেত্রে টিকা কাজ করছে না। অন্যটি ব্রাজিলে দেখা মেলে প্রথম, ‘ব্রাজিলিয়ান ভেরিয়্যান্ট’।

স্বাস্থ্য দফতরের অভিমত, নতুন কোভিড রোগীরা কোন কোন রূপের ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন, তা জানতে সারা দেশের সঙ্গে এ রাজ্যেও প্রতি সপ্তাহে ‘জিনোম সিকোয়েন্সিং’ করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, চারটি নতুন রূপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংক্রামক ভারতীয় রূপটি। চলতি সপ্তাহে কোভিড রোগীদের রক্তে এই রূপটির হদিশ আরও বেশি পরিমাণে মিলতে পারে। এটির দু’বার মিউটেশন হয়েছে। তাই এদের ‘ডাব্‌ল মিউট্যান্ট’ বলা হচ্ছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা অনেকে বলছেন, যে পরিমাণে কোভিড রোগীর জিনোম সিকোয়েন্সিং হওয়া প্রয়োজন, পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, গোটা দেশেই তার চেয়ে অনেক কম হচ্ছে। সারা দেশের সঙ্গে এই রাজ্যেও জিনোম সিকোয়েন্সিং এখনও পর্যন্ত ১ শতাংশেরও কম হয়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের ধারনা, মহারাষ্ট্র থেকেই এই রূপটি এ রাজ্যে এসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। লকডাউন উঠে যাওয়ার পর রাজ্যের বহু পরিযায়ী শ্রমিক ও বেসরকারি সংস্থাগুলির কর্মচারী আবার মুম্বই-সহ মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জেলায় ফিরে গিয়েছিলেন। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ গোড়া থেকেই ভয়াবহ হয়ে ওঠায়, আর তার ভরকেন্দ্র মূলত মহারাষ্ট্র হওয়ায় তাঁদের একটা অংশ ইতিমধ্যেই আবার পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসেছেন। তাঁদের মাধ্যমেই এই ডাব্‌ল মিউট্যান্ট রূপটি রাজ্যে ঢুকেছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে দ্বিমত রয়েছে।

Related Articles