প্রথম পাতা করোনা আপডেট আজকের রাশিফল সকালের বাংলা কর্ম সন্ধান পশ্চিম বাংলা বাংলার জেলা ভারতবর্ষ বিশ্ব বাংলা খেল বাংলা প্রযুক্তি বাংলা বিনোদন বাংলা লাইফস্টাইল বাংলা EXCLUSIVE বাংলা GNE TV
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যআন্তর্জাতিকবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

হার্ড ইমিউনিটি কী? কীভাবে তৈরী হবে করোনার বিরুদ্ধে হার্ড ইমিউনিটি? জেনে নিন বিস্তারিত

GNE NEWS DESK:নির্দিষ্ট একটি জনগোষ্ঠী যখন টিকা নিয়ে কিংবা রোগে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে একটি সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে ‘ইমিউনিটি’ বা রোগসংক্রমণ থেকে নিরাপত্তা পায় তখন পরোক্ষভাবে ওই পুরো জনগোষ্ঠী রোগটি থেকে সুরক্ষিত থাকে। আর চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একেই বলা হয় ‘হার্ড ইমিউনিটি’।

এর মানে হল, এই জনগোষ্ঠী কিছু সদস্য যদি টিকা না নেন কিংবা টিকা নেওয়ার পর তাদের শরীরে ‘ইমিউনিটি’ তৈরি নাও করে, তবুও তারা ওই সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকবেন। কারণ আশপাশের মানুষের মাঝে যেহেতু ‘ইমিউনিটি’ তৈরি হয়েছে, তারাই বাকি সদস্যদের জন্য সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করবেন।

এই ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি হতে শুরু করলেই একসময় রোগটিকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হবে।

GNE

সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন্স অ্যান্ড ইমিউনাইজেইশন’-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে জানানো হলো বিস্তারিত।

‘হার্ড ইমিউনিটি’ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা: রোগের জীবাণুর সংক্রমণ ক্ষমতা যত বেশি, একটি জনগোষ্ঠীকে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ পেতে হলে তত বেশি সদস্যের শরীরে ‘ইমিউনিটি’ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় হাম রোগের কথা।

প্রচণ্ড সংক্রামক রোগ এটি, একজন আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায় ১৮ জনকে আক্রান্ত করতে পারে। সেই হিসেবে এই রোগের ‘হার্ড ইমিউনিটি’ পেতে হলে একটি জনগোষ্ঠীর ৯৫ শতাংশ সদস্যের মাঝে ‘ইমিউনিটি’ থাকতে হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার হাম রোগের তুলনায় কম, গড়ে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি দুই থেকে তিন জনকে সংক্রমিত করেন। অর্থাৎ ‘হার্ড ইমিউনিটি’ পেতে হলে একটি জনগোষ্ঠীর ৬০ শতাংশের ‘ইমিউন’ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে।

টিকার মাধ্যমে না হয়ে বরং রোগে আক্রান্ত হয়ে আবার সুস্থ হওয়ার মাধ্যমে যদি ‘হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জন করা হয় তবে সেটা হলো প্রাকৃতিকভাবে অর্জন।

করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে এভাবে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ পাওয়া কঠিন। কারণ এই ভাইরাস সংক্রমণে যে রোগ হচ্ছে অত্যন্ত প্রাণঘাতি। আর সেজন্যই উত্তম উপায় হলো টিকা। 

টিকা থাকলেও ‘হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জন করা সবসময় সহজ হয় না, সময় লেগে যায় অনেক। কিছু ভাইরাস যেমন মৌসুমী ‘ফ্লু’য়ের ভাইরাস দ্রুত বৈশিষ্ট্য পাল্টায়, ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তাদেরকে ধ্বংস করতে পারে না।

আবার ‘ইমিউনিটি’ সবসময় চিরস্থায়ী হয় না, আর এজন্য প্রতিবছর ‘ফ্লু শট’ দেওয়া হয় অনেক উন্নত দেশে।

‘হার্ড ইমিউনিটি’র ঝুঁকি:জনসাধারণকে গণহারে টিকা দেওয়া অনেক সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি সফলতা বয়ে এনেছে। ফলে যাদের শরীরে জৈবিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় না, তারাও বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা পেয়েছে।

তবে কিছু মানুষ এই ‘হার্ড ইমিউনিটি’র অপব্যবহার করেন। যেমন, অন্যান্য মানুষ টিকা নেওয়ার সুবাদে রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়ার সুবিধা এই মানুষগুলা তো পায়ই, বরং তার সুযোগ নিয়ে নিজে সেচ্ছায় টিকা নেওয়া থেকে বিরত থাকে।

এমনকি টিকার বিরুদ্ধে প্রচারও চালায়। একটি জনগোষ্ঠীতে এমন সুযোগ সন্ধানি মানুষের সংখ্যা যদি বেশি হয় তবে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জন করা আরও জটিল হয়ে দাঁড়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related Articles

x