প্রথম পাতা ভোট বাংলা আজকের রাশিফল সকালের বাংলা কর্ম সন্ধান পশ্চিম বাংলা বাংলার জেলা ভারতবর্ষ বিশ্ব বাংলা খেল বাংলা প্রযুক্তি বাংলা বিনোদন বাংলা        লাইফস্টাইল বাংলা EXCLUSIVE বাংলা GNE TV
ভোটযুদ্ধরাজ্য

ভোট যুদ্ধে জোট-যুদ্ধ, কংগ্রেস-আইএসএফ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

GNE NEWS DESK: ২৮ তারিখের ব্রিগেড মঞ্চ ছিল রাজ্যের তৃতীয় রাজনৈতিক জোটের প্রথম শক্তি প্রদর্শন। বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ একত্রিত হয়েছিল ব্রিগেডে। তবে আসন-রফার প্রশ্নে জটিলতা কাটেনি। সমস্যা মূলত কংগ্রেস এবং আইএসএফ এর মধ্যে। বাম জোট আইএসএফ কে আসন ছেড়ে দিলেও বেশ কিছু আসন ছাড়তে রাজি নন অধীর চৌধুরী। বারবার বৈঠক হলেও রফাসূত্র মেলেনি। ফলে এখনও আটকে প্রার্থী ঘোষণা।

রবিবাসরীয় ব্রিগেডে অধীর-আব্বাস দূরত্ব চলে এলো প্রকাশ্যে। নাটকীয়তার সূত্রপাত রবিবাসরীয় ব্রিগেডে আব্বাসের প্রবেশের সময় থেকে। ব্রিগেডের ময়দানে বিরাট সংখ্যায় হাজির আইএসএফ সমর্থকেরা সভার শুরু থেকেই সরব ছিলেন। মঞ্চে আব্বাস সিদ্দিকি আসতেই তাঁরা প্রবল স্লোগান দিতে শুরু করেন। সেই সময়ে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন অধীরবাবু। হইচইয়ের মধ্যে তিনি প্রথমে বক্তৃতা থামিয়ে দেন। এরপর বক্তব্য না শেষ করেই চলে যেতে উদ্যত হন তিনি। এগিয়ে আসেন সিপিএম এর পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম ও প্রবীণ বাম নেতা বিমান বসু। মূলত তাঁদের হস্তক্ষেপেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বক্তৃতা শেষ করেন।

সেই মঞ্চেই এমন ঘটনায় তাল কেটেছে ‘সংযুক্ত মোর্চা’র ঐক্যে। স্পষ্ট হয়েছে অধীর চৌধুরী ও আব্বাস সিদ্দিকির দূরত্ব। তিক্ততার রেশ বজায় ছিল এর পরেও। নিজের বক্তৃতায় কংগ্রেসকে আরও বিড়ম্বনায় ফেলেন আব্বাস। বাম প্রার্থীদের জন্য রক্ত দিয়ে লড়াইয়ের কথা বললেও কংগ্রেসের নাম করেননি তিনি। পরে আব্বাস বলেন, ‘‘কেউ বলতে পারেন, কেন আমি কংগ্রেসের কথা বলছি না? বামেরা সদিচ্ছা দেখিয়েছে, ত্যাগ স্বীকার করেছে। কংগ্রেসকে বলছি, বন্ধুত্বের হাত বাড়ালে আমাদের দরজা খোলাই আছে। তাদের জন্যও লড়াই করব।’’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘আমরা ভাগ চাইতে এসেছি, তোষণ করতে নয়! বাবাসাহেব বলেছিলেন, ভিক্ষে করে কিছু মেলে না। হক বুঝে নিতে হয়।’’

পরে এই বক্তব্যের উত্তর দিয়েছেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, “আব্বাসের কথায় তো আমাদের দল চলে না! আমাদের জোট হচ্ছে বামেদের সঙ্গে। অন্য কে কী বলল, তাতে কিছু যায় আসে না! বামেদের সঙ্গে রফা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। নিজেদের ভাগের কড়িই জানি না, অন্যদের কী আসন দেব!”

রাজনৈতিক সূত্রের খবর, কংগ্রেসের কাছে আব্বাস সিদ্দিকি মূলত ৯ টি আসন দাবি করেছেন। ইসলামপুর (উঃ দিনাজপুর), বড়োঞা (মুর্শিদাবাদ), শান্তিপুর (নদীয়া), বাগদা (উঃ ২৪ পরগনা), বালিগঞ্জ (কলকাতা), ক্যানিং পশ্চিম (দঃ ২৪ পরগনা), জয়নগর (দঃ ২৪ পরগনা), মগরাহাট পশ্চিম (দঃ ২৪ পরগনা), উলুবেড়িয়া পূর্ব (হাওড়া)। আর এই আসনগুলি নিয়েই মতবিরোধ অধীর চৌধুরীর সঙ্গে। সিদ্দিকির সঙ্গে বাম-কংগ্রেসের জোটের বিষয়ে মুখ্য ভূমিকা নিচ্ছিলেন মহম্মদ সেলিম ও প্রদীপ সরকার। কিন্তু সংখ্যালঘু ভোটের কারনে আইএসএফ সঙ্গে জোটে বিশেষ আগ্রহী নন অধীর চৌধুরী। সেই মতবিরোধ প্রকট হয়েছে ব্রিগেডের মঞ্চে। তাই ব্রিগেডে জোটের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হলেও সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।

একই রকমের খবর