লেখনীরাজ্য

আসছে বছর আবার হবে

নবমী নিশি কেটে পরের দিনের সূর্য উঁকি দেওয়া মানেই পুজো শেষের ঘণ্টা। মায়ের বিদায় নেওয়ার পালা। ফিরবেন কৈলাসে। আবার ১ বছরের অপেক্ষা। তার আগে বিজয়া দশমীর সকাল থেকেই শুরু হয় দশমী পুজো। চলে সিঁদুর খেলা। কিন্তু
এবারের পুজোর আনন্দে কোপ পড়েছে করোনার ।অন্যান্য বছরের মতো রাস্তায় সেই চেনা ঢেউ না থাকলেও সরকারী স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দুর থেকেই প্রতিমা দর্শনের চেষ্টা করেছে একাংশ।
এই মারণ ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে কেউ কেউ তো ঠাকুরের কাছে মানথ করেছেন।

নবমী নিশিতে একটু বেশি করেই মনে পড়তে থাকে। এত আনন্দ, এত আলো, এত মানুষ। এসব নবমী নিশি পোহালেই যে শেষ তা বিলক্ষণ জানে বাঙালি। হতে পারে আজকাল তার পরেও ঠাকুর দেখা চলে। কিন্তু সেই উৎসাহটা থাকে না। যা বিজয়ার আগে পর্যন্ত বজায় থাকে।

সারা বছরের যাবতীয় দুঃখ, কষ্ট, ক্লান্তি ভুলে এই কটাদিন বাঙালি মেতে ওঠে দুর্গাপুজোর আনন্দে। কত ঠাকুর। কত প্যান্ডেল। পুজোর নিয়ম। উপোস, ভোগ, পুষ্পাঞ্জলি, আরতি। সেইসঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা আর পেট পুজো। কোনও সময়ের ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। কিন্তু এবছরের পুজোতে কোরোনার সমস্ত নিয়ম ছিল। মাস্ক ব্যবহার,স্যানিটাইজার, দূরত্ব বজায় রাখা সবকিছুই মানতে হয়েছে।
দশমীর সকালের অন্যতম আকর্ষণই বোধহয় এই রাঙা প্রথা। মাকে পান, মিষ্টিতে বরণের সঙ্গে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন বাংলার নারী। মুখে হাসি নিয়েও মনের কোণে কোথাও একটা ব্যথা কনকন করতেই থাকে। মায়ের মুখের দিকে চেয়ে অনেকেই মনে মনে বলে ওঠেন আবার এসো মা।তবে কোরোনা পরিস্থিতি e অনেকের মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে।

আট থেকে আশি সকলের জন্যই দুর্গাপুজো একটা অপেক্ষা। আর এসে পড়লে সবটুকু নিংড়ে আনন্দ উপভোগ।

গ্রামে বা শহরে পারিবারিক পুজোয় দশমীর দিন মাতৃপ্রতিমার বিসর্জন সনাতনী রীতি। তাই বিজয়ার সকাল থেকেই চলে তোড়জোড়।বাঙালির সেই প্রাণের পুজোর এবছরের মত ইতি হল বিজয়া দিয়ে।

Advertisement with GNE Bangla

একই রকমের খবর

Back to top button
Use GNE Bangla App Install Now
Subscribe YouTube Channel