প্রথম পাতা ভোট বাংলা আজকের রাশিফল সকালের বাংলা কর্ম সন্ধান পশ্চিম বাংলা বাংলার জেলা ভারতবর্ষ বিশ্ব বাংলা খেল বাংলা প্রযুক্তি বাংলা বিনোদন বাংলা        লাইফস্টাইল বাংলা EXCLUSIVE বাংলা GNE TV
জীবনযাত্রাশিক্ষা ও স্বাস্থ্য

কালীপূজা ও দীপাবলী হয়ে উঠতে পারে নিরানন্দের উৎসব, অনিয়ন্ত্রিত বাজি দূষণ শক্তিশালী করবে ‘করোনা’সুর কে মত বিশেষজ্ঞদের

GNE NEWS DESK: দীপাবলিতে বাজির ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি নিয়ে সরব হয়েছে চিকিৎসক সংগঠনগুলি। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোলা চিঠি লিখে পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম। নবান্ন সূত্রের খবর, এ বছর দীপাবলিতে বাজি পোড়ানো নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপের আর্জি জানিয়েছে রাজ্যের করোনা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটিও। যার প্রেক্ষিতে দ্রুত বৈঠক করে এ বিষয়ে করণীয় স্থির করার পরিকল্পনা করেছেন প্রশাসনিক কর্তারা।

অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ দূষণের কারনে গত কয়েক দশকে বায়ু দূষণ মারাত্মক আকার নিয়েছে। আমাদের শ্বাস বায়ুতে বৃদ্ধি পেয়েছে কারসিনোজেনিক উপাদান (ক্যান্সার সৃষ্টিকারী পদার্থ)। তারসাথে কালীপূজা ও দীপাবলীকে কেন্দ্র করে অনিয়ন্ত্রিত বাজিদূষণ বাতাসে বালি, ধুলো, সিলিকন সিওপিডির পরিমাণ বাড়িয়ে করোনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।

কোভিডে দেহের অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলেও মূলত এটি শ্বাসতন্ত্রের অসুখ। ফুসফুসের রক্তবাহী নালীতে রক্ত জমাট বেঁধে সমস্যা তৈরি হওয়ায় পাশাপাশি ‘পোস্ট কোভিড ফাইব্রোসিস’ও রয়েছে। এ ধরনের রোগীরা কোভিড থেকে সুস্থ হলেও দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছেন।
ভাইরাসের হানায় একদল রোগীর ফুসফুস হয়তো ততখানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। কিন্তু মাংসপেশী দুর্বল হওয়ায় রোগী শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। আবার কোভিডের সঙ্গে লড়াইয়ে যাঁদের ফুসফুস জখম হয়েছে তাঁরা স্বাভাবিক হাঁটাচলা করার সময়ও দেহে অক্সিজেনের ঘাটতি অনুভব করছেন। অল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কোভিড থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা এমন রোগীও রয়েছেন। এই রোগীদের ক্ষেত্রে বাজি আদতে বিষবায়ু হয়ে দেখা দেবে।

সমস্যা তৈরি হতে পারে সুস্থ মানুষজনের জন্যও। বাজি থেকে নির্গত দূষিত পদার্থ যে শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি করে, তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। তার উপরে দূষিত বায়ুর সৌজন্যে এমনিতেই ফুসফুসের অবস্থা খারাপ হয়ে আছে। যে ‘পথ’ দিয়ে সার্স-কোভ ২ ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে, দীর্ঘদিনের বায়ুদূষণ সেই ‘পথ’-কেই আগে থেকে প্রশস্ত করে রাখে। ফলে করোনাভাইরাসের শরীরে ঢোকাটা অনেক সহজ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে বাজির দূষণ ‘অনুঘটক’ হয়ে উঠতে পারে।

শ্বাসবায়ু মানবশরীরে প্রবেশের পথে নাসারন্ধ্র ও ফুসফুসের কোষের উপরিভাগে উপস্থিত ‘অ্যাঞ্জিয়োটেনসিন কনভার্টিং এনজ়াইম-টু’ (এসিই২) নামে একটি ‘রিসেপ্টর’ এর সংস্পর্শে আসে। এই রিসেপ্টর মূলত শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, দূষিত বায়ুর বিষক্রিয়া থেকে রক্ষা করা-সহ অন্য কাজ করে। যে হেতু এসিই২ দূষিত বায়ুর বিষক্রিয়া থেকে ফুসফুসকে রক্ষা করে, তাই দেখা গিয়েছে যে, দীর্ঘ দিন ধরে বাতাসে ভাসমান অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা (পিএম ২.৫) শরীরে প্রবেশ করতে থাকলে ফুসফুসকে রক্ষা করার জন্য এসিই২-এর সংখ্যাও বেড়ে যায়। সার্স-কোভ ২ ভাইরাস নিজের স্পাইক প্রোটিন দিয়ে এই এসিই২ রিসেপ্টরের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। অর্থাৎ শরীরে এসিই২ রিসেপ্টরের পরিমাণ যত বাড়ে ততই করোনা ভাইরাস প্রবেশের পথ প্রশস্থ হয়।
এখন বাজি দূষণের ফলে বায়ুদূষণ বাড়লে আমাদের শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতার কারনে এসিই২ রিসেপ্টরের সংখ্যা বাড়বে যা সুস্থ শরীরে আমন্ত্রণ জানাবে করোনা ভাইরাসকে।

ইতিমধ্যে ঋতু পরিবর্তনের কারণে শীত পড়তে চলেছে। শীতের সময়ে আমাদের দেশের আবহাওয়ায় করোনার পরিবর্তিত রূপ কেমন হবে তা এখনও অজানা।
রাজ্যে ৭৮ শতাংশ করোনা-আক্রান্ত হোম আইসোলেশনে থাকার পরেও গুরুতর অসুস্থ করোনা-আক্রান্তদের আইসিইউ-সিসিইউয়ের শয্যার জোগান দিতে গিয়ে সমস্যা হচ্ছে। এই সময়ে অসচেতন সমস্যা বৃদ্ধি সমস্যাকে আরও গুরুতর ও সুদূরপ্রসারী করে তুলতে পারে এমনটাই আশঙ্কা।

Related Articles