সংকটে শিক্ষা: রক্ষার দায়িত্ব আমাদের

9 February 2020, 4:37 pm, 352 Views
সারা রাজ্যের মতো পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ক্ষেত্রেও প্রাথমিক শিক্ষা আজ চরম সঙ্কটে। সংবাদে প্রকাশ মেদিনীপুর শহরের ৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাত্রাভাবে বন্ধ হতে চলেছে। সারা রাজ্যে একই চিত্র উঠে আসছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় কথা ছিল।

 অথচ তার পরিবর্তে ক্রমশ বন্ধ করে দিতে হচ্ছে বিদ্যালয়গুলি। এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়! এর দ্বারা প্রমাণিত যে বিদ্যালয়গুলি ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ। যে কোনো দেশের শিক্ষার ভিত্তি হল সে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা। 
আর আমাদের রাজ্যে তা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। সময়ের সাথে সাথে বিদ্যালয়গুলিকে সামগ্রিক পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, পর্যাপ্ত বিদ্যালয় কক্ষ নির্মাণ, নিবিড় নজরদারি ব্যবস্থা, শিক্ষা বহির্ভূত কাজ অপেক্ষা শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব দান বন্ধ, আকর্ষণীয় আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে আগামী দিনে বাকি বিদ্যালয়গুলিও অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে।

 দিল্লি সরকার, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর ফলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের পুনরায় সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি করছেন। আমরা তা পারছিনা। অনেকে বলছেন, বিদ্যালয়গুলোকে ইংরেজি মাধ্যম রূপান্তরিত করে দিলেই সমস্যা মিটে যাবে। এই ধারণা আংশিকভাবে সত্য। কেননা, বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিকাঠামো এবং উপযুক্ত শিক্ষক ব্যতিরেকে কোন ভাবেই শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। 

বিদ্যালয়গুলির সামগ্রিক মান উন্নয়ন করে মাতৃভাষার পাশাপাশি ইংরেজিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে যদি পাঠদান করা যায় তাহলে স্থায়ীভাবে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।  আর সরকার যদি সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে বেসরকারিকরণের দিকে ঠেলে দিতে চায় তাহলে এভাবেই সরকারি শিক্ষাকে মানুষের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করে তোলা হবে। মানুষ বাধ্য হয়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে ছুটবে। এভাবেই পরোক্ষভাবে সরকার শিক্ষাকে বেসরকারিকরণের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে। এ ব্যাপারে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দায়িত্ব কোন অংশে কম নয়। একে প্রতিহত করার জন্য সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।

Leave a Comment.