বিদ্যুৎ গ্রাহকদের স্বার্থে আন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গীকার জেলা সম্মেলন

বিদ্যুৎ গ্রাহকদের স্বার্থে আন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গীকার জেলা সম্মেলন 1
12 February 2020, 7:30 pm, 466 Views

মেদিনীপুর : মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর হলে আজ (বুধবার) সারা বাংলা বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতি (ABECA)-র পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মধুসূদন মান্না। বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক প্রদ্যুৎ চৌধুরী, রাজ্য সহ-সভাপতি অমল মাইতি, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক জগন্নাথ দাস প্রমুখ। সংগঠনের পক্ষ থেকে বক্তারা প্রত্যেকেই গ্রাহকদের স্বার্থে আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, এ কথা সকলেই স্বীকার করেন যে, পশ্চিমবঙ্গ এক সময় ভারতের মধ্যে অন্যতম উন্নত রাজ্য ছিল৷ সেই পশ্চিমবঙ্গ আজ পিছিয়ে পড়েছে৷ অস্বাভাবিক হারে মূল্যবৃদ্ধি, ভয়াবহ বেকার সমস্যায় জর্জরিত জনজীবন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ সবই আজ পণ্যে পরিণত! কৃষি, ক্ষুদ্র–শিল্প ও ক্ষুদ্র ব্যবসার উপর নির্ভর করেই বেঁচে আছে রাজ্যের বেশির ভাগ মানুষ৷ সেই কৃষি, ক্ষুদ্র–শিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসাও আজ ধুঁকছে৷ যুব-জীবনে গভীর অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা। এই দুঃখজনক পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন অব্যাহত গতিতে কৃষি ও শিল্পের উন্নতি৷ সে উন্নয়ন ঘটানোর একটা প্রধান উপাদন হল বিদ্যুৎ৷ সব উন্নত দেশেই সকলের জন্য বিদ্যুৎ, ২৪ ঘন্টা উন্নত মানের এবং কম দামে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা দরকার। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মাত্র ৫০ পয়সা ইউনিটে কৃষিতে বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে৷ কোথাও আবার বিনা পয়সায় বলে জানা যায়। আশ্চর্যের কথা হল, পশ্চিমবঙ্গে কিন্তু বিদ্যুৎ মাশুল কমার পরিবর্তে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েই চলেছে৷ বিগত সরকারের মতো বর্তমান সরকারও বহুবার বিদ্যুৎ মাশুল বাড়িয়েছে।

সমিতির জেলা সম্পাদক জগন্নাথ দাস বলেন, এমনিতেই কৃষকরা পাচ্ছে না ফসলের লভ্যাংশ। তার উপর বিদ্যুতের চড়া দামে দেনার দায়ে পড়েছে। কৃষি জমিগুলিতে এখনও বাঁশের খুঁটি দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছে। অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, পাঞ্জাবে কৃষকরা বিনা পয়সা বা সস্তায় কৃষি বিদ্যুৎ পেলেও পশ্চিমবঙ্গে কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। ট্রান্সফরমার বিকল হলেও পেতে নাজেহাল। নোটিশ ছাড়ায় যখন তখন এলাকায় নিত্যদিন লোডশেডিং। কাজকর্ম থেকে পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত। নতুন কানেকশন পেতেও হয়রানি হচ্ছে গ্রাহকরা। বেড়ে চলেছে বিদ্যুতের দাম, মেলেনি উন্নত পরিষেবা। নিত্যদিন ভোগান্তি অব্যাহত। মিটার খারাপ বা ত্রুটিপূর্ণ বিল সংশোধনের অভিযোগ জানালেও তার কোনো সুরাহা না হওয়ার আগেই লাইন কেটে দেওয়া এবং অভিযোগ পত্র জমা না নেওয়ারও অভিযোগ।

বিদ্যুৎ আজ সভ্যতার চালিকাশক্তি৷ সেই কারণেই এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিদ্যুতের ব্যবহার বর্তমানে উন্নয়নের চাবিকাঠি৷ কিন্তু মূল কথা হল, এই বিদ্যুৎ দেশের সাধারণ মানুষ আদৌ ব্যবহার করতে পারছে কি না৷ অর্থাৎ এটি সুলভ কি না৷ তথ্য বলছে, বিদ্যুতের দাম বা মাশুল সারা দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই সর্বোচ্চ৷ পশ্চিমবঙ্গ নদীমাতৃক রাজ্য– জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পক্ষে খুবই উপযুক্ত৷ এ রাজ্যে কয়লা খনিও অনেক আছে এবং কয়লার গুণমানও ভাল৷ তাই তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় অন্য রাজ্যের তুলনায় কম৷ কিন্তু বিদ্যুৎ মাশুলের বেলায় উল্টো।

পাশাপাশি আগামী ২৮-২৯ মার্চ দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে অনুষ্ঠিত ABECA ‘র রাজ্য সম্মেলনের সাফল্যের জন্য কর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।

Leave a Comment.