বদলি নিয়ে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগে বিদ্ধ জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যানকে সরিয়ে দেওয়া হল

বদলি নিয়ে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগে বিদ্ধ জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যানকে সরিয়ে দেওয়া হল 1
13 February 2020, 1:47 pm, 565 Views

সমীরণ ঘোষ, মেদিনীপুর, ১৩ ফেব্রুয়ারি :

সরিয়ে দেওয়া হল, পশ্চিম মেদিনীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের (ডিপিএসসি) চেয়ারম্যান নারায়ণ সাঁতরাকে। আজ (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে কলকাতা থেকে আসা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ (শিক্ষা দপ্তর) এর মেলে, তাঁকে পদ থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসাথে, প্রাথমিক শিক্ষার জেলা পরিদর্শক বা ডিআই’কে অবিলম্বে (ইমিডিয়েট) এবং পরবর্তী নির্দেশ জারি অবধি চার্জ বা দায়িত্ব সামলানোর কথা বলা হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরেই, তাঁর (পড়ুন, নারায়ণ সাঁতরা) বিরুদ্ধে শিক্ষক বদলিতে অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলছিল বেশ কয়েকটি প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন। এরমধ্যে শাসকদলের শিক্ষক সংগঠনও আছে।

অভিযোগ যে, মেদিনীপুর শহর কেন্দ্রিক দুটি সার্কেল বা চক্র যথাক্রমে, সদর আর আর এবং সদর আরবানে ছাত্র-শিক্ষক আনুপাতিক হারে অতিরিক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা থাকার পরও, গত দু-তিন মাসে অন্তত ৮ জন শিক্ষিকাকে বদলি করে আনা হয়েছে। এরমধ্যে, সদর আর চক্রে ৫ জন এবং সদর আরবান চক্রে ৩ জনকে জয়েনিং দেওয়া হয়েছে। অথচ, এই দুটি চক্রের, বিভিন্ন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে অন্য চক্রে বদলি করে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে, ছাত্র না থাকায় এবং ভাড়ার স্কুল হওয়ায়, মেদিনীপুর শহর কেন্দ্রিক সদর আর আর এবং সদর আরবান চক্রের ১০ টি স্কুলকে উঠিয়ে দেওয়ার এবং ঐ স্কুলগুলির ১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বদলি করার যে নির্দেশ তিনি জারি করেছিলেন, সে ক্ষেত্রে শিক্ষা দপ্তরের কোনো অনুমতি ছিল না তার কাছে, এমনই গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে এমন অভিযোগ রয়েছে, ঐ শিক্ষকদের নিজেদের চক্রে না দিয়ে, অন্য চক্রে পাঠানো হচ্ছে। এই তালিকায়, শিক্ষিকা যেমন আছেন, তেমনই আছেন, বয়স্ক ও অসুস্থ শিক্ষকও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষকের অভিযোগ, “আমাদের বলা হচ্ছে, এই সার্কেলে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত অনুযায়ী শিক্ষক এর পরিমাণ বেশি অর্থাৎ সারপ্লাস বা এক্সেস টিচার! কিন্তু, তাই যদি হয়, কিভাবে এই দুটি চক্রে গত ২-৩ মাসে অন্য সার্কেল থেকে ৮জন টিচার’কে জয়েনিং দেওয়া হল! যদি, ‘শিক্ষিকা’ বলে অজুহাত দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের বক্তব্য- এই চক্রের অন্য শিক্ষিকাকে কিভাবে বাইরে পাঠানো হচ্ছে! কেনইবা, প্রায় রিটায়ার্ড করতে চলা, বয়স্ক ও অসুস্থ শিক্ষকেও দূরে ঠেলা হচ্ছে!”

এই বিষয়ে উপযুক্ত তথ্য দিয়ে শিক্ষক সংগঠন এবিপিটিএ’ র অভিযোগ, “চরম দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ করছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান। তিনি নিজের পছন্দের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে এক মনোভাব দেখান, আর অন্যদের ক্ষেত্রে অন্য মনোভাব দেখাচ্ছেন!”

অভিযোগ এমনও দুর্নীতি করে শিক্ষক বদলির জন্য, চেয়ারম্যান শাসক সংগঠনের শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও দূরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। একইসাথে হুমকি দিয়ে রেখেছেন, অতি সত্বর (১২ ফেব্রুয়ারি) স্কুলে জয়েন না করলে, বেতন বন্ধ করে দেওয়া হবে!
যদিও সূত্রের খবর অনুযায়ী, গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত মিটিং চলার পর, চেয়ারম্যান নারায়ণ সাঁতরা ঢোঁক গিলতে বাধ্য হয়েছিলেন।

এই বিষয়ে, পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি অর্ঘ্য চক্রবর্তী বললেন, “কিছু অসাধু চক্রের দ্বারা চেয়ারম্যান চালিত হচ্ছিলেন বলে আমাদের মনে হয়। বিস্তর অভিযোগ ছিল তাঁর কাজকর্মের বিরুদ্ধে। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁকে আমরা সংগঠনগত ভবে কৃতজ্ঞতা জানাই। আপাতত দায়িত্বে থাকছেন ডিয়াই সাহেব। আমরা তাঁকে স্বাগত জানাই এবং তাঁকে সমস্ত রকম সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।”

এই বিষয়ে শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী’র বক্তব্য, ” জেলার বিভিন্ন জায়গার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তরফ থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ ছিল।”

Leave a Comment.