জেলা

দুদিন না খেতে পাওয়ায় সাংসদ দেবের কাকার বাড়িতে ত্রান পৌঁছে দিল সেই সিপিআইএম ই

পশ্চিম মেদিনীপুর,কেশপুর : গত বৃহস্পতিবার থেকে হাঁড়ি চাপেনি কেশপুরের মহিষদা গ্রামের বিক্রম অধিকারীর পরিবারে। অভিনেতা ও সাংসদ দেব এর কাকার ছেলের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিলেন সিপিআইএম এর কর্মীরা।

পঞ্চায়েত দপ্তর, ব্লক দপ্তর সহ তৃনমূল নেতা অরুন রায় এর কাছে দরবার করেও জুটেনি এক মুটো চাল। গ্রামে গোপনে এখনো যারা সিপিআইএম কাজ করেন, সেই কর্মীদের কাছে শুক্রবার রাত দশটার দিকে গিয়ে তার অসহায়তার কথা বলেন। সিপিআইএম এর সেই কর্মী এত রাতে শুকনো খাবার মুড়ি জোগাড় করে দেন। ঐ রাতেই খবর আসে কেশপুর বাজারে জামসেদ আলি ভবনে। সেই দপ্তরে তখনো কিছু কর্মী ত্রানের প্যাকেট তৈরী করছেন। পার্টির জেলা সম্পাদক তরুন রায়ের গ্রাম সেই মহিষদা। তিনি সব পরিবার কে জানেন। দেবের বড় জ্যাঠু প্রয়াত শক্তি অধিকারী পার্টির কেশপুরের জোনাল কমিটির সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। বিক্রমের বাবা প্রয়াত বিষ্ণুপদ অধিকারী হলেন দেবের ছোটো কাকা। প্রতি ভোটের সময় কেশপুরের ভিটেতে এসে কাকিমা, জ্যাঠিমা দের পা ধরে প্রনাম করে কত কি বলেন মিডিয়ার সামনে। ভোট শেষ হয়, শুধু নিজের পরিবার কেনো পুরো ঘাটাল লোক সভা কেন্দ্র তে এমন জনপ্রতিনিধি সহ তৃনমূল নেতাদের মানুষ পায়না সে বন্যার সময়ও দূর্গত মানুষের জন্য খাদ্য, চিকিৎসা, পানীয় জল পৌঁছাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই লাল ঝান্ডা পার্টির কর্মীরা।

এমন বাড়ীতে খাদ্যের অভাব, আবার তার জন্য সিপিআইএম এর কাছে সাহায্য চেয়ে এসেছেন। তরুন রায় পার্টি কর্মীদের বলেন, যেমন সব অসহায়দের পাঁচ / সাত কেজি চাল সহ ডাল আলু, তেল সোয়াবিন দেওয়া হচ্ছে, ওদেরও যেন সকাল সকাল দিয়ে আসা হয়। জেলা সম্পাদক বলেন এই মুহুর্তে প্রয়োজনের তুলনায় কেশপুরে খুবই নগন্য পরিমান পরিবার কে কেশপুরের তিনটি এরিয়া কমিটি সাহায্য তুলে দিয়েছেন। সেই সংখ্যাটা সাড়ে চারশ মতো পরিবার। পুলিশ প্রসাশনের কাছে সহযোগিতা বলতে অনুমোদন চাওয়া হয়েছিল। ত্রানের সামগ্রিক সাহায্য হিসাবে সংগ্রহে বাধা, আবার তা বিতরনে বাধা। শাষকদল তৃনমূল কে কেশপুরের মানুষ আর ভয় পায়না। যত সমস্যা প্রসাশনিক আর মিথ্যা মামলা। জেলায় ২৯০০ শ মতো মিথ্যা মামলায় কয়েকশ পার্টির কর্মীর সিংহ ভাগই কেশপুর। ফলে খাদ্য সংকট ও সমস্যা মোকাবিলাতে জনগন সিপিআইএম এর অপেক্ষায়। কারন হিসাবে তিনি বলেন শুধু কেশপুর ব্লকের ৩২ / ৩৫ হাজার মানুষ আজ রাজ্য ছেড়ে আসাম থেকে মহারাষ্ট্র, কাশ্মীর থেকে দক্ষিণ ভারত সহ নেপালএ আটকে পড়েছে । এমন পরিযায়ীরা সেখান থেকেই সিপিআইএম সাহায্য চেয়ে ফোন করেন। আমাদের পার্টি দপ্তর, কেন্দ্রীয় দপ্তর এর সহায়তায় এমন জেলা ও রাজ্যের কয়েক হাজার মানুষ খাদ্য সহ আশ্রয় পেয়েছেন। এমন ঘটনা পরিবার গুলি জানে। এই জেলায় এমন ১৭ হাজার অধিক পরিয়ায়ী শ্রমিক উপকৃত হয়েছেন।
এমন অনেক পরিবারের ঐ আটক পড়া ছেলের টাকা পাঠালে সংসার চলতো। ফেরি, জরি, চুড়ি, রং ও কাঠের মিস্ত্রি এমন নানাবিধ কাজ করে তারা টাকা পাঠাতো। আজ এমন পরিবারগুলিও সংকটে, বিশেষ করে খাদ্যে।
তৃনমুল জানে এমন যুবকরা এলাকায় ফিরে এলে যে কান্ড ঘটাবে তাতে ওরা রাস্তা খুঁজে পাবেনা। কত ফোন, তার কথাও সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে। কিন্তু অসহায় এমন পরিবার গুলির কাছে এবং বাইরে আটক থাকা মানুষের কাছে বাম তথা সিপিআইএম এর কর্মীরা তার সাধ্য মতো খাদ্য সহ সহযোগিতা করার লড়াইতে আছেন। সারা জেলার সংগে কেশপুরও প্রশাসনিক বাধা অতিক্রম করেই সামাজিক দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

বাড়ীতে বৃদ্ধা বিধবা মা, স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে দুই সন্তান নিয়ে পাঁচ জনের পরিবার।
বিধবা মা বয়স্ক, কোনো ভাতাই পান না বিক্রমের মা।

তৃনমূল নেতা সহ পঞ্চায়েত দপ্তর, আবার সাইকেল চালিয়ে সাত কিমি দূরে ব্লক দপ্তরে গিয়ে অসহায়তা কথা বলতে গিয়েও তাড়া খেয়ে গ্রামে ফিরে এসেছেন। পরিবহন শ্রমিক হিসাবে তৃনমূল সংগঠনের কার্ডও আছে। সেই কার্ডেও কোনো সাহায্য জোটেনি । মেদিনীপুর বাসস্ট্যান্ডে এমন শ্রমিকদের জন্য তৃনমুল এর শ্রমিক সংগঠন এর অফিস থেকে প্রতিমাসে কয়েক লক্ষ টাকা চাঁদা তোলা হলেও এমন কঠিন সময়ে কোনো সাহায্য নেই এই পরিবহন শ্রমিক দের।


Tags
Advertisement with GNE Bangla

একই রকমের খবর

Back to top button
Use GNE Bangla App Install Now
Subscribe YouTube Channel
Close