প্রথম পাতা করোনা আপডেট আজকের রাশিফল সকালের বাংলা কর্ম সন্ধান পশ্চিম বাংলা বাংলার জেলা ভারতবর্ষ বিশ্ব বাংলা খেল বাংলা প্রযুক্তি বাংলা বিনোদন বাংলা লাইফস্টাইল বাংলা EXCLUSIVE বাংলা GNE TV
জেলা

কাশ্মীরী আপেলের চাষ মেদিনীপুরে, বাগানের গাছে আপেল ফলিয়ে অবাক করলেন গড়বেতার দুই কৃষক

পশ্চিম মেদিনীপুর:আপেল গাছ দেখার জন্য আর কাশ্মীর বা হিমাচল প্রদেশ যেতে হবে না। পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা গেলেই দেখা মিলবে আস্ত আপেল গাছের। শুনতে অবাক লাগলেও এই ঘটনাকে সত্যি করে দেখিয়েছেন দুই চাষি। সিমলা থেকে আনা চারায় গড়বেতার ওই দুই চাষি কার্যত অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। দু’জন চাষির লাগানো গাছে প্রায় ৭০টি আপেল ধরেছে। যা দেখতে এলাকার মানুষও ভিড় করছেন। যদিও আপেলে এখনও পাক ধরেনি।

জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ রমাপ্রসাদ গিরি সাংবাদিকদের বলেন, মেদিনীপুরের মাটিতে আপেল হয়েছে, এটা সত্যিই খুশির খবর। ফল কেমন হয়েছে, আমি দেখতে গিয়েছিলাম। খুবই উন্নতমানের আপেল ধরেছে। আগামী দিনে চাষিরা যাতে বাণিজ্যিকভাবে ওই আপেল বিক্রি করতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হবে।

GNE

ব্লক কৃষি আধিকারিক তুষার পাত্র জানিয়েছেন, এটি অ্যানা ও গোল্ডেন ডোরসেট প্রজাতির আপেল। কম শীতপ্রধান এলাকায় সাধারণত এই আপেল হয়। গতবার সিমলা থেকে ১০টি চারা এনে পরীক্ষামূলকভাবে দেখার জন্য পাঁচজন চাষিকে দেওয়া হয়েছিল। দু’জন চাষির লাগানো গাছে ফল ধরেছে। বাকিদের গাছে দেরিতে ফুল আসায় এবার আপেল ধরেনি। এই প্রজাতির আপেল হলুদ রঙের হয়। কখনও আবার হালকা গোলাপি রঙের হয়। জুলাই মাসে এই আপেল পাকার সময়। আপেলের স্বাদ ও গুণগত মান ভালো হলে আগামী দিনে এই এলাকায় অনেক বেশি পরিমাণে আপেল গাছ লাগানো হবে।

এই আপেল চারা লাগানোর বিশেষ পদ্ধতি রয়েছে। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন ফুট বাই তিন ফুট গর্ত করতে হবে। তারপর একেবারে নীচে কাঁকড় ছড়িয়ে দিতে হবে। কাঁকড়ের উপর মাটির আস্তরণ দিতে হবে। তার পরের ধাপে বালি এবং জৈব সার দিতে হবে। তারপরই চারাগাছ লাগানো হবে। গাছে পোকামাকড়ের উপদ্রব আটকাতে কীটনাশক দেওয়া যেতে পারে। আর গাছে সরাসরি যাতে রোদ না লাগে, তা দেখতে হবে। গড়বেতার মৌলারা গ্রামের দুর্গাদাস নন্দী এবং বাঁশডিহা গ্রামের রাজেশ নন্দী নামে দু’জন উৎসাহী ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে এই আপেল গাছের চারা এনে লাগিয়েছিলেন।

দুর্গাদাসবাবু সাংবাদিকদের জানান, আমার পোলট্রি ফার্ম রয়েছে। সেখানে নানা ধরনের ফলের গাছ লাগানো আমার বরাবরের শখ। গতবার ব্লক কৃষিদপ্তর থেকে আপেলের চারা দিচ্ছে জানার পরই আমি সেখানে যাই। আমার আগ্রহ দেখে কৃষি আধিকারিক দু’টি চারাগাছ দিয়েছিলেন। কৃষি আধিকারিকের পরামর্শ মেনেই আমি তেলিজাত মৌজায় আমার পোলট্রি ফার্মের ফাঁকা জায়গায় দু’টি আপেলের চারা লাগাই। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে গাছ দু’টি বসিয়েছিলাম। এবছর মার্চ মাসেই ফল এসেছে। যদিও ফল এখনও পাকেনি। কৃষি আধিকারিক এসে দেখে গিয়েছেন। এখন গ্রামের লোকজনও আপেল গাছ দেখতে আসছেন।

অন্যদিকে বাঁশডিহার রাজেশ নন্দী জানান, বাড়ির কাছে ফাঁকা জায়গায় আমি আপেলের দু’টি চারা গাছ লাগিয়েছিলাম। ঝড়ে অন্য একটি গাছের ডাল ভেঙে আপেল গাছে পড়ে। তাতে একটি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই গাছটিতে ফলন ভালো হয়নি। অন্য গাছটিতে ভালো ফলন হয়েছে। লকডাউনে গৃহবন্দি রয়েছি। আপেল গাছে ফল আসায় বেশ ভালো লাগছে। আপেলে স্বাদ ভালো হলে এবার আমি আপেলের বাগান করব বলে ঠিক করেছি।

Related Articles

x