জেলা

সরকারি নির্দেশিকা অমান্য করে থিসিস জমা নেওয়ার অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে

রায়গঞ্জ: লকডাউনের মধ্যে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকার নোটিশ জারি করেছে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। লকডাউনের মধ্যে পিএইচডি থিসিস জমার ‘ডিফেন্ডিং’ অংশ চালিয়ে যাওয়ার ঘটনা সামনে উঠে এসেছে। মাত্র কয়েকদিন আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরিকালচার বিভাগের স্কলার পিএইচডির ডিফেন্ডিং সেরে ফেলেছেন। ওই স্কলারের পিএইচডি গাইড সৌমেন সাহা ঘটনার কথা স্বীকারও করে নিয়েছেন। কিভাবে লকডাউনের মধ্যে এভাবে থিসিস জমা করছেন ও পিএইচডি ডিফেন্ডিং সারছে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন উঠতে শুরু করেছে শহরজুড়ে। এমনিতেই উত্তর দিনাজপুর জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ইতিমধ্যেই রায়গঞ্জ শহরেও ৪ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ হয়েছে। এর মাঝে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত শহরবাসীর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে।

গত ১০ জুন কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের সিএসআইআর এর একটি নির্দেশিকায় (নির্দেশিকার নম্বর ছিল ১/ইউএস/ইএমআর-১/২০২০) বলা হয়েছে যে, “দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও ভাবেই কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনও রকম কার্যক্রম চালাতে পারবে না। কিন্তু দেশের বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুরোধে শুধুমাত্র অনলাইনে নিজেদের থিসিস জমা দিতে পারবেন পিএইচডি স্কলাররা।” অথচ করোনা মহামারীর মধ্যে ঠিক এই কাজটাই করছে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে, দেশের সর্বত্র লকডাউনের মধ্যে স্কলাররা শুধুমাত্র অনলাইনে থিসিস জমা করতে পারবেন। সেই নির্দেশকে অমান্য করে কিভাবে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্কলারদের হাজির করে থিসিস জমা নিচ্ছেন? বিষয়টি নিয়ে শহরবাসীর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

থিসিস জমা নেওয়া সেরিকালচার বিভাগের অভিযুক্ত গাইড সৌমেন সাহা জানান, রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা ছিল সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস বন্ধ থাকবে। কিন্তু অফিসিয়াল কাজকর্ম স্থানীয় চাহিদার উপর ভিত্তি করে চালু থাকবে। তার উপর ভিত্তি করেই থিসিস জমা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার কথা স্বীকার করে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডঃ দুর্লভ সরকার জানিয়েছেন, কোভিড-১৯ প্রোটোকল মেনে যদি কেউ থিসিস জমা দেন, তাহলে তা জমা নেওয়া হবে। লকডাউনের মধ্যে ২-১ জন থিসিস পেপার জমা দিয়েছেন। নিয়ম মেনেই সেগুলো জমা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রিসার্চ কার্যক্রম চালু রেখেছেন। অনলাইনের পাশাপাশি শারীরিকভাবেও তা জমা নেওয়া হচ্ছে।

Tags:রায়গঞ্জ, উত্তরবঙ্গ, উত্তর দিনাজপুর

Tags
Advertisement with GNE Bangla

একই রকমের খবর

Back to top button
Close