জেলা

নিজের বিবাহিত স্ত্রীকে ফিরে পেতে লালগড়ের যুবকের ফেসবুকে কাতর আবেদন

ঝাড়গ্রাম:প্রেমিকাকে ফিরে পেতে অনন্ত বর্মনের পর রাজ্য জুড়ে ধর্না দিয়ে প্রতিবাদ দেখিয়েছেন অনেক প্রেমিক যুগল। তবে এবার আর ধর্না নয়, নিজের বিবাহিত স্ত্রী কে পেতে ফেসবুকের দারস্থ হল লালগড় থানার বামাল গ্রামের অভিজিৎ সিং।

অভিজিৎ এর দাবি গত ২৯ জুন লালগড় থানার চুনপাড়া গ্রামের মেয়ে সঞ্চিতা চালকের সাথে এক মন্দিরে সঞ্চিতার পরিবারের অমতে তারা দুজন বিয়ে করে।পরে সঞ্চিতার পরিবার ব্যপারটি জানলে জোর পূর্বক দহিজুড়ির এক জঙ্গল থেকে অভিজিৎ ও তার দাদা বিশ্বজিৎ সিং কে গাড়ি থেকে নামিয়ে সঞ্চিতাকে অজানা কোন জায়গায় নিয়ে যায় তার পরিবারের লোকজন।

এরপর অভিজিৎ বার বার সঞ্চিতার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কোন ধরনের যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে সঞ্চিতা কোথায় আছে তাও অভিজিৎ এর অজানা।

তাই বাধ্য হয়ে অভিজিৎ তার স্ত্রী কে ফিরে পেতে ফেসবুকের দারস্থ হন। ফেসবুক পোষ্টে অভিজিৎ জানিয়েছেন-

বন্ধুরা ,
খুব বিপদে পড়ে আজ তোমাদের কাছে আমার ,
কিছু কথা তোমাদের জানতে চাই ,
আমি এটাও দেখতে চাই মানুষ আজ পবিত্র ভালোবাসার পাশে আছে
নাকি
সমাজের সেই সব মানুষের পাশে যারা নিজের ইচ্ছে নিজের মেয়ের ওপর চাপিয়ে শুধুমাত্র নিজের সম্মানের জন্য , মেয়ের ইচ্ছা অনিচ্ছার যাদের কাছে কোনো গুরুত্ব নেই ।
আমি দেখতে চাই মানুষ আজ ন্যায়ের দিকে নাকি অন্যায় এর দিকে ।
আমার নাম – অভিজিৎ সিং
বাড়ি – বামাল
আজ ৬ বছর ধরে একটা মেয়ের সাথে আমার রিলেশন ছিল ।
মেয়েটার নাম – সঞ্চিতা চালক
ওর বাবা ঝাড়গ্রাম তাঁর মেজবাবু
গ্রাম – চুনপাড়া
যখন বুঝতে পারলাম যে ওদের বাড়ির লোক আমাদের সম্পর্ক মেনে নেবে না
তখনই আমরা পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলাম ।
একদিন আমরা পালিয়ে গেলাম , এবং বিয়েও করলাম
,
কিন্তু মেয়েটির দাদা খবর পেয়ে
আমার দাদার সাথে পরামর্শ করলো যে দুজনের বিয়ে দিতে হবে ।
কিন্তু মেয়েটির দাদার মনে যে কি ছিল সেটা পরে বুঝতে পারলাম।
সঞ্চিতা এর দাদা , ওর দাদার এক বন্ধু , এবং আমার দাদা তিনজন
আমাদেরকে নিতে এলো বিয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ।

কিন্তু বাড়ি ফেরার সময়
দইজুড়ির জঙ্গলে আমাকে আর আমার দাদাকে জবরদস্তি নামিয়ে সঞ্চিতা এর দাদা আর ওর দাদার বন্ধু ওর বাবা আর বেশ কিছু লোক সঞ্চিতা কে নিয়ে চলে চলে যায় ।
বর্তমানে মেয়ে টির সাথে কোন যোগাযোগ নেই আমার ,
ওরা সঞ্চিতা কোথাও লুকিয়ে রেখেছে ,
আর আমার নামে কেস করছে যে আমি নাকি মেয়ে টাকে লুকিয়ে রেখেছি ।

যখন থানায় কেস করতে গেলাম যে আমাদের বিয়ে হয়া সত্বেও মেয়েটিকে ওরা জবরদস্তি নিয়ে গিয়ে আমাদের নামে কেস করছে ওরা কেস নিলো না ।
আমাদের বিয়ের ছবি ফেসবুক এ আপলড দিয়েছিলাম , সঞ্চিতার একাউন্ট থেকে বলা হচ্ছে যে ওটা এডিট ছবি , ওগুলো ওর একাউন্ট থেকে ওরা বলছে সঞ্চিতা নয়
তোমরা দেখলেই বুঝতে পারবে যে ছবি গুলো এডিট নই ।
বন্ধুরা এই হলো আমার সাথে ঘটে যাওয়া ভাগ্যের পরিহাস।
আমি আবার ওকে ফিরে পেতে চাই ,
একে ওপর কে ভালবেসে বিয়ে করে নিলাম । বিয়ে করার পরেও আমরা আজ এত অসহায় ।
এই আশায় তোমাদের কাছে আমি আমার সাথে ঘটে জাওয়া ঘটনা তোমাদের কাছে জানালাম ,যে তোমরা
সবার কাছে sare করে আমার এই ঘটনা এর কথা পৌঁছে দিয়ে আমার পাশে দাঁড়াবে ।এবং
যদি সঞ্চিতা কে কোথাও দেখতে পান দয়া করে
এই নাম্বারে ফোন করে আমাকে জানাবেন ।
ফোন – 93821 46974

ফেসবুক পোষ্টটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

এখন দেখার অনন্ত বর্মনের মতো অভিজিৎ তার স্ত্রী কে ফিরে পায় কী না।

[qws]Tags: লালগড়, অভিজিৎ সিং, প্রেমিক যুগল, অভিজিৎ – সঞ্চিতা, লালগড়ের প্রেমিক যুগল

Advertisement with GNE Bangla

একই রকমের খবর

Back to top button
Use GNE Bangla App Install Now
Subscribe YouTube Channel