বীর রসের বীরত্বের ছউ নাচের আখড়া ধূলো উড়িয়ে চলে গেলেন – ধুঁধা মাহাত

Passed away famous chow artist Dhundha Mahata

প্রদীপ মাহাত ,পুরুলিয়া : সংস্কৃতির পীঠস্থান ছটনাগপুর দহড়ের লঢ়ি পাথইরা মাটির সাল, মহুল,পলাশ,কেন্দ,ভেলা,ঢেলা,আম জাম, কাঁঠাল, পিয়াল,আসন, কুসুম বনের পাহাড় ঘেরা গাজাড়ের ছউ এর দেশের ভূবন বিখ্যাত ছউ ওস্তাদ মাননীয় ধনঞ্জয় মাহাত (Dhananjay Mahata) ওরফে ধুঁধা মাহাত (dhunda mahato) গত ১২/০৯/২০০০ তারিখ শেষ বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। তিনি পুরুলিয়া জেলার বালিগাড়া গ্ৰামে জন্ম গ্ৰহন করেছিলেন। তার বাবার নাম পেলারাম মাহাত, (phellaram mahata) মায়ের নাম সুসারি মাহাত। তাঁর বৌয়ের নাম রোহিনী মাহাত এবং তার দুই ছেলে এক মেয়ে। তার বড় ছেলে দেবেন নাচের সাথে যুক্ত, ছোট ছেলে ভূপেন বলরাম কলেজের অতিথি অধ্যাপক এবং মেয়ে শান্তবালা মাহাত।
ধুঁধা মাহাত ছোট বেলা থেকেই ‘ছউ’ নাচের প্রতি আগ্ৰহ ছিল এবং তাঁর বাবাও ওস্তাদ ছিলেন। ধুঁধা মাহাতরা তিন ভাই ছিলেন এবং সকলেই ছউ নাচের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বাবার কাছ থেকে। ধুঁধা মাহাত ছিলেন সব চেয়ে বড়ো ভাই তাই তাঁর দায়িত্ব ছিল বেশি। তিনি লাগদা হাইস্কুল থেকে পড়াশুনা করেন এবং বেশিদিন লেখাপড়া করতে পারেন নি তাই লেখাপড়া ছেড়ে আপন সংস্কৃতিতে পুরোপুরি ভাবে ছউ নাচে মনপ্রাণ সঁপে দেন।
ধুঁধা মাহাতর বাবার ইচ্ছা ছিল তাঁর বেটা একদিন একজন বড়ো ওস্তাদ হবে।তাঁর বাবা চিন্তা করেন কিভাবে তার ছেলেকে একজন বিখ্যাত ছউ ওস্তাদে পরিনত করতে পারবেন। তিনি ছোট বেলা থেকেই নাচ শেখাতে লাগলেন। তিনি যখনেই সুযোগ পেতেন ঘরের আঙ্গিনায় হোক চাই কুলহিতে হোক চাই খামহারে হোক নাচ শেখাতেন। তার বাবা আড়শা থানার বড়াম গ্ৰামের ছউ ওস্তাদ মাহিন্দী কালিন্দিকে নিয়ে আসেন নাচ শেখানোর জন্য এবং তিনি নাচ শেখান। একদিন তার বাবা পাশের গাঁ সনাই জুড়িতে চইত পরবে ছউ নাচ দেখাবার জন্য নিয়ে যায় এবং আপ্রান চেষ্টা করে তাকে ছউ নাচ দেখাবার জন্য। সেই আসরে বাঘমুন্ডির জরু কুমারের নাচ ছিল তাই মেলা কর্তৃপক্ষ বিখ্যাত ওস্তাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নাচাতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু তাঁর বাবা পেলারাম মাহাত জিগিড় ছাড়েনি ( নাছোড়বান্দা )। অবশেষে তৎকালীন ৫০০ টাকা দিয়ে অনুমতি নিয়ে সেই আসরে নাচালেন। আসরকে তিনি মাত করে দিলেন সবাই বলতে লাগলো ধুঁধা ধুঁধা। সাধে কি তার বাবা ” ধুঁধা ” নাম রেখেছেন। তিনি জানতেন একদিন তার ছেলে কালবৈশাখী ঝড়ে যেমন প্রচন্ড গতিতে ধুলো ঝড় এসে চারিদিকে ধুলোয় ভরে যায় তেমনি তার ছেলে ছউ নাচের আসরে নেচে নেচে আসর মাত করে দিবেন আর বীর রসের নাচের বীর পদধ্বনি তে নেচে ধুলো উড়িয়ে দিবেন। তাই এই শক্তিশালী ধুলো ঝড়কেই কুড়মালিতে বলে ‘ ধুঁধ ঝড় ‘। তাই তাঁর বাবা সখ করে বীর রসের বীর নাচ ছউ নাচে একদিন তার বীরত্ব প্রকাশ পাবে ভেবেই এই নাম রেখেছিলেন।তার নাচ দেখে চতুর্দিকে হৈচৈ পড়ে যায় এবং নাচতে নাচতে প্রচন্ড পেটের ব্যাথায় বীর নাচের তাঁর বীরত্বকে হার মানাতে পারেনি।
তার বাবা সেই সময় একটা কথা বলেছিলেন তাকে ‘ পেট দুখা হইল তঅ কি হইল ,মরবি তঅ মরবি জাইনবঅ জে হামার একটা বেটাই নাইখে ‘। তিনি তখন সেই দিন দৃঢ় পদক্ষেপ নিলেন যে তাকে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।
এইভাবে ধুঁধা মাহাত ছউ নাচের প্রতি পুরোপুরি আসক্ত হয়ে পড়লেন।ছোটনাগপুর তথা বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র ঢোল,নাগাড়া, পেঁপটি,চেড়পেটি,মেরাকস,মদন ভেড়ি সহ প্রাচীন সঙ্গীত ঝুমইরের সুরে তালে ছোটনাগপুরের নিজস্ব ঘারানায় ছউ নাচকে আপন করে তিনি এগিয়ে চলেন। তিনি সারা ছোটনাগপুর সমেত ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছউ নেচে এসেছেন।
ধুঁধা মাহাত তাঁর এই ওস্তাদি সফলতায় সরকারিভাবে পুরষ্কার থেকে বঞ্চিত হলেও ছউ জগতের ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হননি।

[qws]Tags: আপডেট খবর, বাংলা খবর, করোনা আপডেট, আজকের রাশিফল, bengalinews, ভারতের খবর, আজকের খবর, আবহাওয়ার খবর,ঝাড়গ্রাম, উপকারিতা, দেশের খবর, আজকের নিউজ

Use GNE Bangla App Install Now
Subscribe YouTube Channel