জেলা

প্রায় ৪০০ বছর আগে শুরু হওয়া তমলুকের এই বনেদি বাড়ির পূজোর পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে ইতিহাস

সার্থকরাম ছিলেন তমলুকের তাম্রধ্বজ রাজার ব্যবস্থাপক। রাজা তাঁকে ব্যাবত্তা এলাকা দান করেন। সার্থকরাম মারা যাওয়ার পর, তাঁর উত্তরসূরিরা পুজো চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন কর্মদক্ষতার জন্য রাজ পরিবার থেকে সার্থকরামের উত্তরসুরীদের ভট্টাচার্য ও চক্রবর্তী উপাধি দেওয়া হয়।

এই পরিবারের পুজো ব্যাবত্তাবাটির পুজো নামেই পরিচিত। দুর্গাপুজোতে বাপের বাড়িতে মা অপমানিত হওয়ায় নিজের বাড়িতে পুজো শুরু করেছিল ছেলে। প্রায় চারশো বছর আগে তমলুকের ব্যাবত্তা গ্রামের সার্থকরাম ঘোষাল মায়ের অপমান সহ্য করতে না পেরে ঘটে দুর্গাপুজা শুরু করেন। তার কয়েক বছর পর মৃণ্ময়ী রূপে নিয়মনিষ্ঠা মেনে পুজো শুরু হয়।

পরিবারের প্রবীণ সদস্য অরুপ ভট্টাচার্য জানান, এখানে একচালার প্রতিমা পুজো হয়। পুরনো প্রথা মেনে নন্দোৎসবের দিন বাড়ি থেকে ২ কিলোমিটার দূরে পতিতালয় থেকে মাটি তুলে নিয়ে এসে প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয়। ষষ্ঠী থেকেই মাকে ভোগ নিবেদন করা হয়। যেমন ষষ্ঠীতে ১২ সের, সপ্তমীতে এক মণ সাত সের থেকে শুরু করে নবমীতে এক মণ নয় সের চালের ভোগ দেওয়া হয়। পুজোর কটা দিন ব্যাবত্তাবাটির দুর্গাদালান একান্নবর্তী পরিবারের চেহারা নেয়।

পরিবারের তরুণ সদস্য সন্দীপ চক্রবর্তী জানান, পুজোর দিনগুলিতে বাড়ির বাইরে যেতে মন চায় না। যারা বাইরে থাকেন তারাও এই চারদিন ব্যাবত্তাবাটিতে চলে আসেন। পরিবারের প্রায় ২৫০ জন সদস্য এক সঙ্গে খাওয়াদাওয়া-আনন্দ করেন পুজোর দিনগুলিতে। বিজয়া দশমী পর থেকে শুরু হয় প্রতিক্ষার পালা।

Advertisement with GNE Bangla

একই রকমের খবর

Back to top button
Use GNE Bangla App Install Now
Subscribe YouTube Channel