জেলা

বনেদিয়ানাতে সেরার সেরা প্রায় ৫৩৫ বছর আগে শুরু হওয়া সোনারপুরের ব্রহ্মচারী বাড়ির পুজো

নিজেদের বনেদিয়ানাতেই এখনও দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্যতম সেরা বনেদি বাড়ির পুজো হিসাবে পরিচিত সোনারপুর থানার মালঞ্চ গ্রামের ব্রহ্মচারী বাড়ির পুজো। বাংলাদেশের রাজশাহীতে এই পুজোর সুত্রপাত হলেও দীর্ঘ ৫৩০ বছর ধরে নিজেদের সাবেকিয়ানা বজায় রেখে চলেছে ব্রহ্মচারী পরিবার।

৫৩০ বছর আগে বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার চামু ব্রহ্মচারীর হাতে শুরু হয় পারিবারিক এই দুর্গাপুজো। সেই সাবেকিয়ানাকে ধরে রেখে, বর্তমানে সোনারপুর থানার মালঞ্চতেই পুজিত হচ্ছেন মহিষাসুর মর্দিনী রূপে। অর্থাৎ দেবীর চার সন্তানদের কেউই দেবীর সঙ্গে থাকেন না। এক সময়ে পাঁঠা বলির রেওয়াজ ছিল ব্রহ্মচারী বাড়ির পুজোতে।

প্রায় ১১৭ বছর আগে পশুটি বলির আগেই মারা যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় সেই প্রথা। তার পরিবর্তে শুরু হয় চালকুমড়ো ও ফল বলি। এখনও পুজোর সমস্ত ভোগ রান্না হয় ঘি দিয়ে। তেল ব্যবহার হয় না একেবারেই। পুজোর ভোগ রান্না করেন বাড়ির মেয়েরাই। ঢাকি থেকে শুরু করে পুরোহিত, বংশ পরম্পরায় সকলেই দায়িত্ব নিয়ে এই মালঞ্চ বাড়ির পুজোর কাজকর্ম সামলান।

নন্দীকেশ্বর পুরাণ মতেই মহিষাসুর মর্দিনীর পুজো হয় এখানে। ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন আর দশমীতেই প্রতিমা বিসর্জন হয়। বাড়ির পুরুষ সদস্যরা কাঁধে করে দেবীকে মণ্ডপ থেকে বিসর্জনের পথে নিয়ে যান। পুজোর কটাদিন এই বাড়ির পুজো ছেড়ে কেউই যাননা বাইরে ঠাকুর দেখতে। আগে এটাই ছিল এ অঞ্চলের একমাত্র পুজো। এখনও গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ি থেকেই মানুষজন আসেন এই ব্রহ্মচারী বাড়ির পুজোতে অংশগ্রহণ করতে। বর্তমান প্রজন্মের সুকদেব ব্রহ্মচারীর কথায়, “পুজোর জৌলুস হয়তো আগের মত নেই কিন্তু, আমাদের বনেদিয়ানা এখনও বর্তমান”।

শর্মিলা ব্রহ্মচারী বলেন, “আমরা বাড়ির মেয়ে- বউরা মিলেই পুজোর সমস্ত জোগাড় করি। পুজোর কটাদিন বাড়ি ছেড়ে বেরোতেই ইচ্ছা করেনা”।

Advertisement with GNE Bangla

একই রকমের খবর

Back to top button
Use GNE Bangla App Install Now
Subscribe YouTube Channel