প্রথম পাতা ভোট বাংলা আজকের রাশিফল সকালের বাংলা কর্ম সন্ধান পশ্চিম বাংলা বাংলার জেলা ভারতবর্ষ বিশ্ব বাংলা খেল বাংলা প্রযুক্তি বাংলা বিনোদন বাংলা        লাইফস্টাইল বাংলা EXCLUSIVE বাংলা GNE TV
জেলাভোটযুদ্ধ

তৃণমূল ছাড়লেন শিশির অধিকারী, অবশেষে কাঁথির ‘অধিকারী’গড় রঙ বদলে গেরুয়া

GNE NEWS DESK: অবশেষে শিশির অধিকারী তৃণমূল ত্যাগ করলেন। পূর্ব মেদিনীপুর ও কাঁথির ‘অধিকারী’গড় এখন রঙ বদল করে গেরুয়া। শিশিরের বিজেপি যোগে পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের গোরবান্বিত এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

মেদিনীপুরের রাজনীতিতে অধিকারীদের অংশগ্রহণ ও অবদান দীর্ঘদিনের। স্বাধীনতা আন্দোলনে অবিভক্ত মেদিনীপুরের অধিকারী বাড়ি ছিল বৈপ্লবিক সংগ্রামের অন্যতম কেন্দ্র। শিশিরের বাবা কেনারাম অধিকারী লবণ সত্যাগ্রহে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ইংরেজ আমলে জেল খেটেছেন কাকা বিপিন অধিকারী। পারিবারিক ঐতিহ্য মেনে শিশির অধিকারীও যোগ দেন কংগ্রেসে। একসময় মেদিনীপুরের রাজনীতি ও শিশির অধিকারী সমার্থক হয়ে উঠেছিল। ১৯৬৩ সালে কাঁথির ভবানীচকে পঞ্চায়েত প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন শিশির। ১৯৬৯ সালে কাঁথি পুরসভার প্রথম নির্বাচিত কাউন্সিলরদের একজন। ১৯৮২ সালে কংগ্রেসের টিকিটে বিধায়ক হন কাঁথি দক্ষিণ থেকে। পরে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সির সাথে মতানৈক্য ঘটে। শিশিরের প্রবল প্রভাবের কারনে কাঁথিতে বামেরা তাদের সুসময়েও প্রভাব ফেলতে পারেনি। সকলকে হতবাক করে পরবর্তীতে তৃণমূলে যোগ দেন শিশির।

১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসে তৃণমূল তৈরি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সাথে সাথে কংগ্রেস ত্যাগ করেন নি শিশির। রাজনৈতিক অঙ্ক বিশ্লেষণ করার পর অনুগামী ও পরিবারের সঙ্গে যোগদান করেন তৃণমূলে। এরপরে ২০০১ সালে কাঁথি দক্ষিণ থেকে তৃণমূল বিধায়ক হন। ২০০৬ সালে তৃণমূলের বিধায়ক হন এগরা বিধানসভা থেকে। ২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৯ টানা তিন বার কাঁথি থেকে হন তৃণমূলের সাংসদ। অমিত শাহের উপস্থিতিতে বিজেপি যোগ দিয়ে শিশিরের মুখে শোনা গিয়েছে সেই স্মৃতিচারন। তিনি বলেন, “যে ব্যথা যন্ত্রণা নিয়ে আমি এসেছি, তা প্রকাশ করতে চাই না। গ্রাম পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধায়ক, মন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে আজ প্রায় ৬০-৬২ বছর রাজনীতিতে আপনাদের সঙ্গে রয়েছি। আজ বিজেপি পার্টিকে সমৃদ্ধ করে আমার, আপনার ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে হবে।”

তৃণমূলে তাঁর শেষের দিনগুলো যে যন্ত্রনা দীর্ন তাও প্রকাশ করেছেন শিশির অধিকারী। অভিযোগ করেন, “আমাদের পরিবার এই জেলায় স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে ভোট পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ দিন রয়েছে। অত্যন্ত বেদনা ও দুঃখের সঙ্গে, ব্যথিত হৃদয়ে আপনাদের জানাতে চাই, যে ভাবে আমাদের তাড়ানো হয়েছে, আমাদের পরিবারকে নিপীড়িত করার চেষ্টা করা হয়েছে তা ইতিহাসে লেখা থাকবে।”

নিজের বক্তব্যে সরাসরি তৃণমূলকে আক্রমণ করে বর্ষীয়ান নেতার বক্তব্য, “নন্দীগ্রামে শুভেন্দু জিতবেই। পূর্ব মেদিনীপুরে সাফ হয়ে যাবে তৃণমূল।”
নরেন্দ্র মোদির প্রতি নিজের আস্থা রেখে শিশির আরও বলেন, “এটা আমার আত্মসম্মানের লড়াই, চিরকাল লড়াই করেছি, আগামী দিনেও লড়ব। এটা মেদিনীপুরের সম্মানরক্ষার লড়াই।”

একই রকমের খবর