প্রথম পাতা করোনা আপডেট আজকের রাশিফল সকালের বাংলা কর্ম সন্ধান পশ্চিম বাংলা বাংলার জেলা ভারতবর্ষ বিশ্ব বাংলা খেল বাংলা প্রযুক্তি বাংলা বিনোদন বাংলা লাইফস্টাইল বাংলা EXCLUSIVE বাংলা GNE TV
জেলাCorona Virus

তান্ডব পাঁশকুড়ার বড়মা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে, আক্রান্ত ডাক্তার-নার্স, মাথা ফাটল সুপারের

GNE NEWS DESK: করোনার বিগত প্রথম ঢেউয়ের সময় করোনা চিকিৎসায় রাজ্যে সফল জেলা হিসাবে দেশের মধ্যে নজর কেড়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। পাঁশকুড়া মেচগ্রাম মোড়ে বড়মা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তাতে উল্লেখ যোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল। সেই হাসপাতালেই শনিবার ভাঙচুর চালাল রোগীর পরিজন। মাথা ফাটল হাসপাতাল সুপারের।

ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, শাসকদল তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি’র জেলা সভাপতি দিব্যেন্দু রায়ের অনুগামীদের দিকে। সূত্রের খবর, গত ১৩ মে দিব্যেন্দু হাসপাতালের সুপার ভাস্কর রায় এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর আফজল শাকে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করেন তমলুকের হাসপাতালে ভ্যান্টিলেশনে থাকা এক রোগীকে বড়মায় ভর্তি করতে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। শনিবার সকালে তিনি মারা যান। ‘ডিসচার্জ সার্টিফিকেট’ দেরি করে দেওয়া হচ্ছে, এই অভিযোগে তুলে সকাল ৯টা নাগাদ অন্তত ১০০ জন লোক নিয়ে হাসপাতালে চড়াও হয় মৃতের আত্মীয়েরা। তারা হাসপাতালের রিসেপশন, কম্পিউটার, প্রিন্টার, বসার জায়গায় তুমুল ভাঙচুর শুরু করে বলে অভিযোগ।হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মহিলা কর্মীরাও আক্রান্ত হন। অভিযোগ, পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল সুপার ভাস্কর রায় এগিয়ে এলে, তাঁকে লক্ষ করে লোহার রড ছোড়ে এক দুষ্কৃতী। আঘাতে মাথা ফাটে সুপারের। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে তাণ্ডব। এরপর দুষ্কৃতীরা জোর করে মৃতদেহ নিয়ে চলে যায় বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর।

আহত সুপার ভাস্কর রায় জানিয়েছেন, ‘‘ওই রোগীর অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে আমরা প্রথমে ভর্তি নিতে চাইনি। দিব্যেন্দু রায়ের বারবার অনুরোধে আমরা রোগীতে ভর্তি নিই। যারা হামলা চালিয়েছে, তারা প্রত্যেকেই দিব্যেন্দু রায়ের লোক। পূর্ব পরিকল্পনা মতো এটা ঘটানো হয়েছে। রোগীর মৃত্যুর অনেক আগে থেকেই ওই লোকজন হাসপাতালের পিছনে জমায়েত করেছিল। আমরা প্রথমে জমায়েতের কারণ বুঝতে পারিনি। পাঁশকুড়া থানায় এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।’’ হামলার কথা স্বীকার করে মৃতের আত্মীয়ের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসায় অবহেলা করেছেন। রোগীর মৃত্যুর পর ডিসচার্জ সার্টিফিকেট পেতে দেরি হচ্ছিল। তখন কথা কাটাকাটি হতে হতে কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে মারধরে জড়িয়ে পড়েন। হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আফজল শা-এর অভিযোগ, এটা একটা ষড়যন্ত্র। পুলিশ সঠিক ভাবে তদন্ত করলেই আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। জানা গিয়েছে আফজল শা সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। রাজনৈতিক আক্রোশ থেকে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে অনুমান করছেন অনেকে। পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার এবং হাসপাতালে উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

GNE

Related Articles

x