ব্রতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট হচ্ছে শিবরাত্রি ব্রত-নিপেন মাহাত

✒️নিপেন মাহাত: যা জাতি , ধর্ম , বর্ণ , লিঙ্গ ভেদে সকলেই করতে পারে. অনেকে মনে করে শিব রাত্রি কেবলমাত্র মেয়েদের জন্য , যারা এই কথা বলে তারা বড়োসড়ো মুর্খ. এই ব্রত সবাই পারে করতে. অনেকের পক্ষে চার প্রহর ব্যাপী পুজো সম্ভব না হলে তিথি যখন পরে , তখন একবার পুজো করলেও চলে , তবে তা শিব রাত্রি ব্রতের পুজো নয় এমনি শিব পুজো বলেই গণ্য . তবে মন খারাপের কিছু নেই , তা কোনো সাধারণ পুজো হবে না , কারণ চতুর্দশী র তিথি তে ভক্তি ও সৎ ভাবে পুজো করলে তাও যথেষ্ট ফলদায়ী . তবে চেষ্টা করুন রাত্রিযাপন করে ব্রত পালন করতে. শিব রাত্রি র আগের দিন নিরামিষ ভোজন করুন.

কারণ এটি নিয়ম.
শুক্রবার মানে শিবরাত্রি তে তো নিরামিষ খেতেই হবে. এবার শিবরাত্রি পড়েছে ৮ ই ফাল্গুন , ১৪২৬ , শুক্রবার. ইংরেজিতে ২১ সে ফেব্রুয়ারী .তিথি শুরু হচ্ছে শুক্রবার বিকাল ৫টা ২০ মিনিট এ ও যা শেষ হবে পরের দিন ২২শে ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যা ৭. ০২ মিনিট. প্রথম প্রহরের পুজো -সন্ধ্যা ৬: ১৫ থেকে ৯ :২৫ এর মধ্যে , দ্বিতীয় প্রহর- রাত্রি ৯:২৫ থেকে ১২:৩৪ এর মধ্যে. তৃতীয় প্রহর – রাত্রি ১২.৩৪ থেকে ৩.৪৪ এর মধ্যে আর শেষ বা চতুর্থ প্রহর – ৩:৪৪ থেকে সকাল ৬:৫৪ এর মধ্যে. যারা চার প্রহর না একবার করবেন তারা এইসময়ের মধ্যে যেকোনো সময় পুজো করতে পারেন.
উপকরণ- ঘি , দুধ , চিনি , মধু , দই , ত্রিমুখী বেলপাতা , চন্দন , পাঁচ টি ফল তার মধ্যে রাখুন বেল ( যদি ফলের পরিমান বাড়ান তা করবেন বিজোড় সংখ্যাই মানে ৭ , ৯ বা ১৫ ) পৈতে , আকন্দ মালা বা না পেলে গাঁদা , রজনী বা অপরাজিতার মালা , কণ্টক ফল ও ধুতুরা ফুল , অবশ্যই গঙ্গা বা কোনো পরিশুদ্ধ জল , কিছু ফুল , দূর্বা .

পুজো অনেকে মন্দিরে করে আবার অনেকে বাড়িতে. যেখানে খুশি পুজো করতে পারেন. তবে বাড়িতে যদি মাটির শিব লিঙ্গ বানিয়ে পুজো করেন , তাহলে চার প্রহরে চারটি পৃথক পৃথক লিঙ্গ নেবেন আর তা না হলে পাথরের শিব লিঙ্গ তাই পুজো করুন. পুজো র দিন জলে কালো তিল দিয়ে স্নান করুন. তিল শরীর ও মাথা ঠান্ডা রাখে ও বেশ পরিস্কারও অনুভূত হয়. তিথি শুরু হলে মন্দিরে যান বা বাড়িতে ঠাকুর ঘরে প্রবেশ করে , প্রথম আচমন , তারপর সংকল্প ও গনেশ , সূর্য র প্রণাম মন্ত্র পথ করুন তারপর স্টিল বাদে যেকোনো ধাতুর বাসনে শিব কে বসান ও তাকে স্নানের ব্যবস্থা করুন.

( ১ ) প্রথম প্রহ‌রে ভগবান শিব ঠাকুরকে নিন্ম‌
লি‌খিত ম‌ন্ত্রে দুগ্ধ দ্বারা স্নান করা‌বেন মন্ত্র যথা-

“ইদং স্নানীয় দূগ্ধং ওঁ হৌং ঈশানায় নমঃ”।
প্রথম প্রহ‌রে স্নান করা‌নোর পর অর্ঘ্যদান করবেন মন্ত্র যথা-

“ওঁ ‌শিবরা‌ত্রি ব্রতং দেব পূজাজপপরায়ণঃ ক‌রো‌মি বি‌ধিবদ্দত্তং গৃহাণার্ঘ্যং মহেশ্বর।।”

( ২ ) ‌দ্বিতীয় প্রহ‌রে দ‌ধি দ্বারা নিন্ম‌ লি‌খিত ম‌ন্ত্রে শিব ঠাকুরকে স্নান করা‌বেন মন্ত্র যথা–

“ইদং স্নানীয়ং দ‌ধি ওঁ হৌং অঘোরায় নমঃ।”

‌দ্বিতীয় প্রহ‌রে স্নন করা‌নোর পর অর্ঘ্যদান করার মন্ত্র যথা–
ওঁনমঃ শিবায় শান্তায় সর্বপাপহরায় চ। শিবরা‌ত্রৌ দদামর্ঘ্যং প্রসীদ উমায় সহ।।”

( ৩ ) তৃতীয় প্রহ‌রে ঘৃত দ্বারা নিন্ম‌ লি‌খিত ম‌ন্ত্রে শিব ঠাকুর‌কে স্নান করা‌বেন মন্ত্র যথা–
“ইদং স্নানীয়ং ঘৃতং ওঁ হৌং বাম‌দেবায় নমঃ।”

তৃতীয় প্রহ‌রে স্নান করা‌নোর পর শিব ঠাকুর‌কে অর্ঘ্য দান করার মন্ত্র যথা–
“ওঁ দুঃখ দা‌রিদ্র শো‌কেন দ‌গ্ধোহহং পার্ব্বতীপ্রিয়। শিবরা‌ত্রৌ দদামার্ঘ্যং উমাকান্তং গৃহাণ মে।।”

( ৪ ) চতুন্থ প্রহ‌রে মধু দ্বারা নিন্ম‌ লি‌খিত ম‌ন্ত্রে শিবশঙ্কর‌কে স্নান করাবেন মন্ত্র যথা–
“ইদং স্নানীয়ং মধু হৌং স‌দ্যোজাতায় নমঃ।”

চতুর্থ প্রহ‌রে শিব ঠাকুর‌কে স্নান করা‌নোর পর অর্ঘ্যদান করার মন্ত্র যথা–
ওঁ ময়া কৃতান্য‌নেকা‌নি পাপা‌নি হর শঙ্করঃ। শিবরা‌ত্রৌ দদাম্যর্ঘ্যং উমাকান্ত গৃহান মে।।”

স্নানের সময় মহাদেব কে ফুল , বেলপাতা ও দূর্বা সহযোগে স্নান করান , যারা একবারই স্নান করাবেন তারা উপকরণ গুলো এক এক করে মহাদেব কে অর্পণ করুন , একটি করে উপকরণ দিয়ে জল দিয়ে তা ধুয়ে পরের উপকরণ টা দিন. তারপর পৈতে তা পরিয়ে দিন. চন্দন দিয়ে কপালে ত্রিপুণ্ডক বা তিনটে দাগ এঁকে দিন. পুজো তে কোনোভাবেই সিঁদুর , তুলসী পাতা ও হলুদ ব্যবহার করবেন না আর শঙ্খ বাজাবেন না।

অতঃপর কায়মন বা‌ক্যে বাবা ভোলানা‌থের উদ্দি‌শ্যে কর‌জো‌ড়ে নিন্ম নিন্ম লি‌খিত মন্ত্র ব‌লবেন–

অ‌বি‌ঘ্নেন ব্রতং দেব ত্বৎপ্রসাদাৎ সম‌র্পিতং। ক্ষমস্ব জগতাং নাথ ত্রৈ‌লোক্যা‌ধিপ‌তেহর।। যন্ময়াদ্য কৃতং পূণ্যং তদ্রুদ্রস্য নি‌বে‌দিতং। তৎপ্রসাদ্যন্ময়া দেব ব্রতমদ্য সমা‌পিতং।্ প্রস‌ন্নো ভব মে শ্রীমন্ মদ্ভ‌ক্তিঃ প্র‌তিপাদ্যতাং। তদা‌লো‌কেন মা‌ত্রেণ প‌বিত্রোহ‌াস্ম ন সংশয়ঃ।

অতঃপর বাবা ভোলানাথ শিবশঙ্কর‌কে বিসর্জ্জনা‌ন্তে ব্রতকথা পাঠ অথবা শ্রবণ কর‌বেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.