অর্থমন্ত্রীর ঘোষিত কোভিড ১৯ ত্রান প্যাকেজ থেকে কৃষকের প্রাপ্তি শূন্য

কলকাতা: উল্লেখযোগ্য ভাবে ভারতের কৃষকরা ভারতের অর্থমন্ত্রীর ঘোষিত ১.৭৫ লক্ষ কোটি টাকার ত্রাণ প্যাকেজের বাইরে থেকে গেলেন। ‘এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে পি এম – কিষাণের অধীনে এপ্রিল ২০২০ -তে কৃষকদের যে ২০০০ টাকা পাওয়ার কথা, মন্ত্রী সেই পাওনাকে নতুন ত্রাণ হিসেবে গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং দেশকে বিভ্রান্ত করছেন। ভারতে মহামারী না থাকলেও, ২০২০ সালের এপ্রিলে কৃষকরা এই ২,০০০ টাকা পেতেন।’ বললেন জয় কিষাণ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা যোগেন্দ্র যাদব।

এই প্রসঙ্গে জয় কিষাণ আন্দোলনের জাতীয় আহ্বায়ক অভীক সাহা বলেন, ‘অতিরিক্ত খাদ্য এবং কিছু আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করা হয়েছে যা হয়তো জীবন রক্ষা করবে, কিন্তু ইতিমধ্যেই গভীর সঙ্কটে জর্জরিত কৃষকদের জীবিকা পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। শীতকালীন শস্য, ডাল, আলু এবং মরশুমী ফসল, সবজি কাটাই ও বাজারে বিক্রির জন্য তৈরী হয়ে রয়েছে, কিন্তু এই লকডাউনের সময়কালে কৃষকরা কিভাবে তাদের ফসল কাটবে, বাজারে কি ভাবে নিয়ে যাবে এবং বিক্রি করে তাদের রোজগার কি করে ঘরে তুলবে, সরকার এ বিষয়ে চুপ করে রইল। দুধ ও পোলট্রি ব্যবসায়ীরাও একই রকম উদ্বেগে রয়েছে। এটা মনে রাখতে হবে যে মার্চ-এপ্রিল এমন একটা সময়, যখন কৃষকরা তাদের আধ বছরের আয় অর্জন করে নেয় এবং যা দিয়ে কৃষকের পরের ৬ মাস চলে। অবাক করার মতো বিষয় যে সরকার জুয়া-সাটটার শেয়ারবাজার অর্থনীতির জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে তাঁকে লকডাউন থেকে সুরক্ষিত রেখেছে কিন্তু খাদ্য উৎপাদন সরকারের কাছে এতটাই গৌণ যে সেদিকে কোনওরকম দৃষ্টিপাতই করেনি।’

জয় কিষাণ আন্দোলন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে যে দাবি গুলো রেখেছে:
১. কৃষক, পোলট্রি ব্যবসায়ী, খামার উৎপাদন পরিবহনকারী, বিক্রেতা ইত্যাদির জন্য বিশেষ আইডি কার্ড বা পাস দিতে হবে যাতে তারা প্রতিদিনের কাজ চালিয়ে যেতে পারে।
২) কৃষি বাজারগুলি লেনদেনের জন্য খোলা রাখতে হবে; যথাযথ নিয়ম মেনে সামাজিক দূরত্ব ও সাবধানতা বজায় রেখে।
৩) যাতায়াত ও জমায়েত হ্রাস করার জন্য, সরকারী সংস্থাগুলিকে অবিলম্বে খামারজাত পণ্যের (বিশেষত পচনশীল পণ্য) ভ্রাম্যমান ব্যবস্থার মাধ‍্যমে ক্রয় করতে হবে।
৪) ই-ন্যাম ব্যবস্থার কাজ করা নিশ্চিত করতে হবে যাতে বেশিরভাগ লেনদেন অনলাইনে করা যায়।
৫) মহামারী নিয়ন্ত্রণের পরে আলোচনা সাপেক্ষে এক বছরের জন্য সমস্ত ঋণ পরিশোধের ওপর ১ বছরের জন্য স্থগিতাদেশ ঘোষণা করতে হবে।

এটাই সময় যখন কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত দেশের সকল কৃষকের কাছে পি এম – কিষাণের সুবিধা পৌঁছানো নিশ্চিত করা এবং এই ব্যবস্থায় যে গলদগুলো রয়েছে তা ঠিক করে নেওয়া।