জাতীয়

মুম্বাই থেকে প্রয়াগরাজ: লকডাউন ভাঙতে ভরসা পেঁয়াজ-পাসপোর্ট

লকডাউনের কারণে মুম্বাইয়ের ধরভি বস্তিতে আটকে পড়া প্রয়াগরাজের এক বাসিন্দা তার নিজের শহরে পৌঁছানোর এক অনন্য উপায় খুঁজে পেয়েছিলেন। একটি পেঁয়াজের বস্তা বহন করে তিনি লকডাউনের মধ্যেও বাড়ি ফিরেছিলেন। তিনি পুলিশের অনুমতি পেয়েছিলেন কারণ পেঁয়াজ একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য এবং এর চালান নিষিদ্ধ নয়।

প্রেম মুর্তি পান্ডে (৫,) মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত ছিলেন এবং ২৩ শে মার্চ নোভেল করোনা ভাইরাস মহামারির প্রেক্ষাপটে লকডাউন ঘোষণার পর থেকেই এই শহরে আটকে পড়েছিলেন। পান্ডে এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি হিসাবে অভিহিত, ধারাভিতে বাস করতেন। যা বর্তমানে করোনা ভাইরাসের একটি অন্যতম হটস্পট।

কেন্দ্রীয় সরকার শাকসব্জী এবং ফলমূল পরিবহনকে লকডাউনের আওতায় আনেনি। কারণ সেগুলো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের মধ্যে পড়ে। সংবাদসংস্থা টাইমস অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ১৬ এপ্রিল, পান্ডে নাসিকের পিম্পলগাঁও গিয়ে ১০ হাজার টাকার তরমুজ কিনে এনে পরের দিন তা মুম্বাইয়ে বিক্রি করেছিলেন। পরীক্ষামূলক ভাবে তার এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে, তিনি নাসিকের কাছ থেকে ২.৩ লক্ষ টাকায় ২৫.২ টন পেঁয়াজ কিনে ৭৭ হাজার ৫০০ টাকায় একটি ট্রাক ভাড়া নেন এবং ওই ট্রাকে পেঁয়াজ বোঝায় করে প্রয়াগরাজের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন।

বৃহস্পতিবার রাতে পান্ডে প্রয়াগরাজ পৌঁছে সরাসরি পেঁয়াজ বিক্রি করতে মুন্ডেরা মান্ডিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু, পেঁয়াজ বিক্রির জন্য কোনও চুক্তি করতে ব্যর্থ হলে তিনি শহরের কোতোয়া মোবারকপুর এলাকায় নিজের বাড়িতে ফিরে যান তিনি। পান্ডে বলেন যে, তিনি এটি ছোট ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনা করছেন।

টিপি নগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অরবিন্দ সিং বলেছেন, ‘পুলিশ খবর পেয়েছিল যে একজন লোক মুম্বই থেকে এসেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের একটি দল তার বাড়িতে গিয়ে থার্মাল স্ক্রিনিং করেছে। তাকে হোম কোয়ারান্টিনে থাকতে বলা হয়েছিল। শনিবার তার সোয়াব নমুনা সংগ্রহ করার পর তাকে কারেলির একটি আইসোলেশন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।’ পান্ডে জানিয়েছেন যে, তিনি কোনও ভুল করেননি। আইনের পথেই বাড়ি ফিরেছেন।

Tags
Advertisement with GNE Bangla

একই রকমের খবর

Back to top button
Close