কোটি কোটি টাকার জঙ্গলমহল মেলা কার স্বার্থে ?

✒️তপনকান্তি মাহাতো:কোথা থেকে আসে মেলার নামে কোটি কোটি টাকা?কার টাকা,কে দেয়,কাদের দেয়,কিসের জন্য দেয়? জঙ্গলমহল বাসী সাঁওতাল,কুড়মী সহ অন্যানায জনজাতি মানুষের ভাবা উচিত,ভাবার দরকার আছে।পরিবর্তনের সরকারের এই মেলা নামক সর্বনাশের খেলায় প্রতি বছর যে কোটি কোটি টাকা তচনছ করা হয়,এতে আপনাদের মতো প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কতটুকু উন্নয়ন,কিসের উন্নয়ন হয়েছে?সাতদিনের মেলায় প্রতিদিন এক কোটি টাকা আপনাদের নাম করে খরচ করা হলেও সেই টাকা আপনাদের কি কি কাজে লেগেছে?

এসব প্রান্তিক জনজাতির পরব,মেলা তাদের নিজস্ব রীতিতে আবহমান কাল ধরে হয়ে আসছে।এতদিন তাতে কারো অণুপ্রেরণা দরকার হয়নি।শুনেছেন কোনদিন সাঁওতালদের ওড়গোদার ভৈরব থানের মেলা,কুসুমডাঙার মেলা,কানাইশরের পাহাড়পূজার মেলা,অযোধ্যা পাহাড়ের মেলা,পরকুল,দেউলঘাটের টুসু মেলায় কোনদিন কোন সরকারের টাকায় হয়েছে?এসব মেলা উদ্বোধন করতে কোনকালে কোনো মন্ত্রী নেতা দরকার পড়েছে?আদিবাসী জনজাতিদের নিজস্ব রীতি আচার মেনে মেলা হয়ে আসছে।এসব মেলায় স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে  তারা সবাই নাচ গান করে নিজেরা মেতে ওঠে,অন্যদের মাতিয়ে তোলে।না জনজাতিদের নাচ গানের জন্য কোন মন্ঞ্চ  বা বাহারি আলোর দরকার পড়ে না।দরকার পড়ে না কারো অনুপ্রেরনার।সেরেঙ্গ এর সুরে ধমসা মাদল বেজে উঠলেই সাঁওতালদের শরীর নাচের তালে দুলে ওঠবেই।তেমনি ঝুমুরের সুরে ঢোল,মাদলের বোলে কুড়মীর রক্তে নাচন লাগবেই।আর তাদের এই সব নাচ,গান তারা ছোট থেকে বড় হওয়ার পথে কখন শিখে যায় সেটা তারা নিজেরা বুঝতেই পারে না।আর তাদের নাচ,গানের বাজনার জন্য ধমসা,মাদল,ঢোল তারা নিজেরাই বানিয়ে নিতে পারে।এসব  পাওয়ার আশায় তাদের নাচ,গান থেমে থাকেনি বা তাদের কোন মেলা বন্ধ হয়নি।তাই তাদের জন্য আদিখ্যেতা করে অনুপ্রেরনার মেলার নামে জনগনের টাকার শ্রাদ্ধ বন্ধ করার দরকার।

এই জনজাতি মানুষদের কাছে আমার আবেদন ভেবে দেখুন তো অলচিকির শিক্ষক ,বই,স্কুলের জন্য বার বার আপনাদের রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হচ্ছে।তবুও এর  সুরাহা আজো হয়নি।কই মেলার মন্ঞ্চে মন্ত্রী ঘোষনা করুক তো আপনাদের জন্য দশটা স্কুলে অলচিকি পড়ানোর জন্য শিক্ষককে সবার সামনে নিয়োগ পত্র দিলেন।অলচিকিতে পড়ার জন্য পড়ুয়াদের হাতে মেলার মন্ঞ্চে সব বই তুলে  দেওয়ার ব্যবস্থা হোক।মেলার মন্ঞ্চে মন্ঞ্চে সরকার গরীব মেধাবী পড়ুয়াদের সব ভার নেওয়ার কথা ঘোষনা করুক।দেখি এই সরকারের জনজাতিদের উন্নয়ন করার সত্যিকারের ইচ্ছা কতটুকু?মনে রাখবেন ওরা এসব চায় না।

তাহলে ঘটি মাথায় ওদের সামনে নাচবে কে?শিক্ষাই পারে কোন জাতি,গোষ্ঠী দেশকে উন্নত করতে,এগিয়ে নিয়ে যেতে।আর এই সরকার এই জনজাতি মানুষ দের শিক্ষা থেকে দৃরে রাখার অপচেষ্টাই করে চলেছে।ধমসা,মাদল দেয় ,বই দেয় না।পঃবঙ্গের আর কোনো জেলা বা এলাকার মানূষদের জন্য মেলার মন্ঞ্চে বাদ্য যন্ত্র দেয় না কেন এই সরকার।কই নদীয়ার কীর্তনের দলগুলিকে বা বীরভূমের বাউলদের কেন ঐসব দেয় না?কেন তাদের জন্য সরকার ঘটা করে মেলা করে না?যারা বাংলা গান করে তাদের জন্য মেলা করে হারমোনিয়াম,বা অন্য বাদ্য যন্ত্র দেয় না কেন?কারন তারা শিক্ষিত ,তাদের ঐ সামান্য জিনিস দিয় ভোলানো যাবে না।খোঁজ নিন জনজাতির জন্য কটা স্কুলে ছাত্রাবাস নতুন ভাবে চালু করেছে।একটাও না।বাঁকুড়ার রানীবাঁধ সহ অনেক ব্লকের চালু ছাত্রাবাস,স্কুল শিক্ষকের অভাবে এদের আমলে বন্ধ হয়ে গেছে,কিন্তু মেলা তে টাকার অভাব নেই ।মেলা বন্ধ হয় না বাড়তে থাকে ।তাই ভাবুন এতে কার কতটুকু ভালো হচ্ছে।ভাবুন,ভাবতে শিখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Use GNE Bangla App Install Now
Subscribe YouTube Channel