বিশেষ সংখ্যারাজ্য
Trending

ঝাড়গ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভা–জনস্বার্থে নয়,ভোটের স্বার্থে

✒️তপন কান্তি মাহাত:অনেক ঢাক ঢোল বাজিয়ে আবার হলো ঝাড়গ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভা। সব জায়গাতেই এনার নতুন আমদানি সরকারি অর্থ খরচ করে প্রশাসনিক সভার নামে দল ও নিজের প্রচার।ঝাড়গ্রামেও তাই করে গেলেন।জঙ্গলমহল তথা ঝাড়গ্রামের মানুষেরা বর্তমানে কি চান,তাদের সুষ্ঠুভাবে বাঁচার জন্য কি দরকার সেসব জানার কোনো চেষ্টাই করলেন না।আর ওনার দলের নেতা,জনপ্রতিনিধিরা জন সংযোগ বিচ্ছিন্ন।

তাই এলাকার মানুষের অভাব,অডিযোগের কথা কারো কথাতেই উঠে আসেনি। জাম্বনী ব্লক বা অন্য গ্রামীন এলাকার চাষীরা করলা সহ অন্বিয সব্জি বিক্রি করতে না পেরে বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল।আগামীতে চাষীদের এই ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানো যায় তার জন্য জেলা প্রশাসনের কোন ভাবনা নেই। করোনা ঝাড়গ্রাম শহরে ক্রমশঃ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে কিন্তু তার প্রতিরোধে বা চিকিৎসার কি কি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তার হদিশ জেলাপ্রশাসন দিতে পারেনি।

জেলার অনেক মানুষ ডিজিট্যাল রেশন কার্ড পায়নি কেন? কার্ডের জন্য রোজ হাজার হাজার মানুষকে সারাদিন খাদ্যসরবরাহ দপ্তরে বারবার লাইন দিতে হবে কেন?একথা কোন জনপ্রতিনিধির গলায় শোনা গেল না। ঘোড়াধরার সরকারি আবাসনের সমস্যার কথা ঝাড়গ্রাম শহরের কোন নেতা বা প্রশাসনের কেউ সমাধানের জন্য দাবি করলেন না।

মুখ্যমন্ত্রী জেলার জন্য যে সব ঘোষনা করলেন তার বেশীর ভাগ আদিবাসীদের সেই একটি গোষ্ঠীকে তোষন করার জন্য আর ধর্মের নামে আবেগে হাওয়া দিলেন।ওনার প্রশাসনিক সভায় শুধুমাত্র সাঁওতালদের ভারত জাকাত মাঝি মাড়োয়াদেরর নেতাদের ডেকেছিলেন কোন যুক্তিতে?কেন জেলার সর্ববৃহৎ জনগোষ্ঠী কুড়মীদের সমাজ নেতাদের তিনি ডাকলেন না?ভূমিজরাই বা কোনদিন ডাক পায়নি কেন? জেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম কোন যুক্তিতে সাঁওতাল কবির নামে নামকরন করলেন?পুরুলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে সাঁতাল গোষ্ঠীর সিধু,কানুর নামে করেছেন।তবুও ঝাড়গ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন ওদের কারো নাম করতে হলো?কেন জেলার সংখ্যাধিক্য জনগোষ্ঠী কুড়মীদের দাবি মেনে শহীদ রঘুনাথ মাহাতোর নামে করা হলো না? উনি কি মনে করেন শুধু সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর মানুষের ভোটেই তার দল জিতবে? তাহলে লোকসভা ভোটের হার থেকে উনি শিক্ষা পাননি।চরম কুড়মী বিরোধী সাঁওতাল সমাজ নেতা রবীন টুডুকে দলের নেতা বানিয়ে উনি ভাবছেন ভোট বৈতরনী পার হবেন।

কিন্তু জঙ্গলমহলে বর্তমানে কুড়মীরা অনেক সংগঠিত,তারা যে ভোটে নির্নায়ক শক্তি সেটা সবার জানা উচিত।বাস্তবটা অস্বীকার যারা করবে তাদের ভুগতে হবেই।মুখ্যমন্ত্রীর আচরনে কুড়মী জন গোষ্ঠীর প্রতি অবহেলা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে।কুড়মীদের দাবি শোনার কোন প্রয়োজনীয়তা তিনি মনে করেননি। বিভিন্ন হিন্দু মন্দিরের জন্য অর্থ সাহায্যের কথা একতরফা ঘোষনা করে গেছেন।জেলার মানুষকে রোজগারের কোন দিশা দেখাতে পারেন নি।সেই গোষ্ঠী তোষনেই তিনি ভোটে জেতার ঘুঁটি সাজিয়ে গেলেন। [ মতামত বিভাগের সমস্ত লেখার দায়িত্ব লেখকের,এর সঙ্গে GNE MEDIA NETWORK কোন ভাবেই যুক্ত নয়]

Advertisement with GNE Bangla

একই রকমের খবর

Back to top button
Use GNE Bangla App Install Now
Subscribe YouTube Channel