রাজ্য

লকডাউনে বন্ধ আয়, দিতে হবে বিদ্যুতের বিল, মাথায় হাত গ্রাহকদের

লকডাউনের ফলে সারা দেশেই বন্ধ অর্থনৈতিক কার্যকলাপ। এর ফলে রোজগার হারিয়েছেন এক বড় অংশের দেশবাসী। এই বিপর্যয় সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের ইএমআই স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাংকও। ব্যতিক্রম শুধু পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎ দপ্তর। সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ বিল জমা দেওয়ার নির্দেশিকা দেখে মাথায় হাত সাধারণ মানুষের।

পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থা ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড-এর পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে যথা সময়ে জমা বিদ্যুতের বিল। গত বছরের এই সময়কালীন ত্রৈমাসিক বিলের সঙ্গে এ বছরের বিল তৈরি করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে বিদ্যুৎ সংস্থা। সেই বিল যথাসময়ে অনলাইনের মাধ্যমে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আর এই নির্দেশিকা ঘিরে উঠেছে প্রশ্ন। এই লকডাউন পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ যখন চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎ সংস্থার এই নির্দেশ অমানবিক বলে জানিয়েছেন অনেকেই। এই বিপর্যয়কালে বিদ্যুতের বিল কীভাবে মেটাবেন খুঁজে পাচ্ছে না সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। লালগড় এলাকার এক সবজি চাষী জানিয়েছেন, ‘এ বছর লকডাউনের ফলে ফসল ঘরে তুলতে পারিনি। ক্রেতা না থাকায় জমিতেই নষ্ট হয়েছে ফসল। প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে কীভাবে বিদ্যুতের বিল জমা দেব বুঝে উঠতে পারছি না।’

অনলাইনে বিদ্যুৎ বিল জমা দিতেও সমস্যায় পড়ছেন গ্রাহকরা। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের নিজে অনলাইনে বিল জমা দেওয়ার ক্ষমতা নেই। এ ক্ষেত্রে কোন না কোন কম্পিউটার সেন্টারের উপর নির্ভর করতে হয় তাদের। এই অসময়ে তারাও চড়া চার্জ নিচ্ছে বিলা জমা করতে। সাঁকরাইল ব্লকের এক বিদ্যুৎ গ্রাহক জানিয়েছেন, সাধারণ অবস্থায় ১০ থেকে চার্জ নিত বিল জমা দিতে। এই চার্জ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে চরম সংকটের মধ্যে পড়তে হচ্ছে উপভোক্তাদের।

Tags
Advertisement with GNE Bangla

একই রকমের খবর

Back to top button
Close