রাজ্যজাতীয়বিশেষ সংখ্যা

রেশন দেওয়া নিয়ে প্রতিযোগিতা নয়! প্রতিযোগিতা হোক শিক্ষিত বেকারদের কাজ দেওয়া নিয়ে

সম্পাদকীয়:বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের ফলে দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। দীর্ঘকাল যাবৎ দোকান পাট থেকে শুরু করে অফিস কাছারী ও বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি কোম্পানি গুলো বন্ধ ছিলো। রুজি রোজগার বন্ধ থাকার ফলে নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের পকেটে টান পড়ে। ঠিক এই সময়েই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। লকডাউন এর শুরু থেকেই দুই সরকার রাজ্যবাসীর জন্য রেশন বরাদ্দ করেন।

কেন্দ্র সরকার যেখানে রেশনে চাল ও গম বরাদ্দ করেন, রাজ্য সেখানে আরও একধাপ এগিয়ে বরাদ্দ করেন ডাল ও তেল। এ যেন রেশন নিয়ে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। এরপর লকডাউন এর দীর্ঘ পর্বের শেষে কেন্দ্র আনলক ওয়ানের পর্যায় শুরু করেন। এই আনলক ওয়ানের প্রথম পর্যায় শেষ হয়ে এখন আনলক টু পর্যায় শুরু হতে চলেছে। আস্তে আস্তে খুলে যাচ্ছে দোকানপাট ,বাজারহাট ,অফিস কাছারি। করোনা সংক্রমণ যেমন বাড়ছে তেমনি মানুষ সুস্থ হয়ে বাড়ি ও ফিরে যাচ্ছেন কিন্তু কেন্দ্র-রাজ্য রেশন লড়াই এখনো সমানতালে অব্যাহত।

কেন্দ্র সরকার যেখানে ফ্রিতে রেশনের জন্য পাঁচ মাস বরাদ্দ করেন ,মুখ্যমন্ত্রী সেখানে পুরো বছরটাই ফ্রিতে‌ রেশন ব্যবস্থা চালু করেন। আজ থেকে আনলক এর দ্বিতীয় পর্যায় শুরু। গতকাল আনলক ওয়ান এর পর্যায় শেষ হয়েছে। আনলক ওয়ান‌ এর প্রথম পর্যায়ে বহু মানুষই লকডাউন কে উপেক্ষা করেছেন,এই সকল মানুষের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার‌ পাশাপাশি মোদিজি গতকাল রেশন ব্যবস্থা র কথাও বলেন। গতকাল ফ্রিতে রেশন প্রসঙ্গে মোদীজি বলেন যে-আগামীতে আরও পাঁচ মাস ৮০ কোটি মানুষকে ফ্রিতে রেশন দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে একটি ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রী সেখানে ঘোষণা করেন যে-আগামী আরো এক বছর রাজ্যের সকল মানুষকে ফ্রিতে রেশন বিলি করা হবে।

রেশন নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের এই জোর টক্করের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞদের মত প্রতিযোগীতা টা রেশন ব্যবস্থা নিয়ে না হয়ে, কর্মসংস্থান নিয়ে হ‌ওয়া উচিত। ১৩০ কোটির দেশে প্রয়োজনের তুলনায় কর্মসংস্থান অনেকাংশেই কম, কেন্দ্র সরকার এবং রাজ্য সরকার উভয়েই এই বিষয় নিয়ে উদাসীন। দেশে জনসংখ্যার তুলনায় কর্মসংস্থান অল্পই। তাই তো আজও অসংখ্য মানুষকে রাজ্য থেকে ভিন রাজ্যে, অথবা ভিন দেশে যেতে হয় কর্মসংস্থানের জন্য। আর স্বভূমি তে কর্মসংস্থান না পেয়ে তারা যখন বাইরে যায় তখন তাদের গায়ে পরিযায়ী শ্রমিকের তকমা লাগিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ভেবে দেখতে গেলে এই দায় দুই সরকারেরই।তাই কেন্দ্র আর রাজ্য সরকার যখন রেশন ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন, আরেকদল তখন কর্মসংস্থানের দাবি করছেন।
অন্য দিক থেকে ভেবে দেখতে গেলে মানুষকে ফ্রিতে কিছু পাইয়ে দেওয়ার পরিবর্তে যোগ্য মানুষের কর্মসংস্থান করাই সুচিন্তার পরিচায়ক। কারণ মানুষকে ফ্রিতে কিছু পাইয়ে দিলে একদিকে যেমন তারমধ্যে আলস্য তৈরি হয়, অপরদিকে তার আত্মসম্মানে ও আঘাত লাগে, কিন্তু মানুষকে যদি কাজের জায়গা করে দেওয়া যায়, তাহলে সে নিজেই সক্ষম হবে পরিবারের দায়িত্ব নিতে।আর চাকরির সকল ক্ষেত্রে শিক্ষিত, যোগ্য মানুষেরা সুযোগ পেলে অর্থনীতি এমনি চাঙ্গা হয়ে উঠবে। তাই বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একাংশের মত- রেশন নিয়ে এরকম হাড্ডাহাড্ডি লড়াই না করে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকার যদি যোগ্য ,শিক্ষিত মানুষদের কর্মসংস্থান নিয়ে এরকম প্রতিযোগিতা করেন তাহলে দেশের অসংখ্য বেকার যুবক যুবতীরা সক্ষম হয়ে উঠবেন। তখন এই সকল মানুষদের আর রাজ্য বা কেন্দ্র সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না।

[qws]Tags: সম্পাদকীয়, বেকারদের কর্মসংস্থান,

Advertisement with GNE Bangla

একই রকমের খবর

Back to top button
Use GNE Bangla App Install Now
Subscribe YouTube Channel