বিজেপির পর এবার তৃণমূলের সঙ্গে আঁখি দাসের আঁতাত,২০১৬ তৃণমূলের জয় ফেসবুকের হাত ধরেই?

Facebook’s collusion with the TMC

GNE NEWS DESK: বিজেপি এবং আরএসএস-এর সঙ্গে ফেসবুকের যোগ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। এই নিয়ে সংসদেও বক্তব্য রাখার প্রস্তুতি চলছে কংগ্রেসের। গত ১৪ অগাস্ট ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়ে যে বিজেপিকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছেন ফেসবুক ইন্ডিয়ার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কার্যনির্বাহী কর্তা আঁখি দাস। আবার শুধু বিজেপিয় নয়, আরেক শাসক দল তৃণমূলের সাথে যোগাজোগের অভিযোগ উঠেছে আঁখির বিরুদ্ধে।

সিপিএম-এর পশ্চিমবঙ্গ এ যে শাখা আছে তার পক্ষ থেকে ২০১৬-র পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রতি পক্ষপাত দেখানোর অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের দাবি তৃণমূল সরকারের পাঁচ বছরের সাফল্য তুলে ধরে ৩৮টি ছোট আকারের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয় তার পিছনে আঁখি দাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কারণ ১৯ শে মে ফল বেরোনোর পর আঁখি দাস ফলাও করে নিজেই ফেসবুক ওই ৩৮টি ভিডিও এর ব্যাপারে লিখেছিলেন।

শুধু তৃণমূল না ,আঁখি দাসের দুই শিবিরেই ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ বলে তুলে ধরেছে সিপিএম। পারিবারিক দিক থেকেও তাঁর যোগসূত্র রয়েছে দুই শিবিরেই বলে সিপিএমের ধারণা। একদিকে তাঁর শ্বশুর ২ বারের তৃণমূল বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে, তাঁর দিদি রশ্মি দাস এবং স্বামী কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ আমলা সৌম্য চট্টোপাধ্যায় আরএসএস ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ সিপিএম-এর। এই রশ্মি দাস একটি এনজিও চালান যা আর এস এস এর টাকা তেই চলছে বলে দাবি সিপিএম এর।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত ওই নিবন্ধ নিয়ে জাতীয় রাজনীতি এখন উত্তাল। কংগ্রেস ও অন্য বামদল এর পক্ষ থেকে ফেসবুকের কর্ণধার মার্ক জুকেরবার্গকেও এই নিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।তবে এই সময় এই বিষয়ে একটি কথাও বলেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এই চুপ থাকা আসলে আঁখি দাসের পক্ষপাতিত্ব কেই তুলে ধরছে বলে মনে করছে সিপিএম।

২০১১ সাল থেকেই ফেসবুকের ভারত এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর হন আঁখি দাস। এককথায় ভারতে ফেসবুকের সর্বময় কর্তা বলা যেতে পারে তাঁকে। ওয়াল স্টচ্রিট জার্নালের ওই নিবন্ধ প্রকাশ হওয়ার পরই গত রবিবার রাতে ৪৯ বছর বয়সী আঁখি দাস দিল্লি পুলিশের সাইবার সেলে অভিযোগ করেছিলেন, “বেশ কিছু লোক ‘অনলাইন পোস্টিং বা কনটেন্ট’ প্রকাশ করে আমাকে ‘প্রাণ ও দেহ’-এর বিরুদ্ধে ‘হিংসাত্মক হুমকি’ দিচ্ছে”।

এই ফেসবুক-বিজেপি যোগ বিতর্ক নিয়ে প্রথম টুইট করেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।তিনি সরাসরি বলেন যে ফেসবুক ইন্ডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে বিজেপি। এই নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। তবে তারপরেও কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলির মুখ বন্ধ করা যায়নি। এই বিষয়টি আরো অনেকদূর যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এখনো তৃণমূল কোনো মুখ খোলেনি এই নিয়ে। তবে সিপিএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র ব্যঙ্গ করে বলেন যে আর এস এস আর তৃণমূল ফেসবুকের একান্নবর্তী এক পরিবার।
[qws]Tags:বিজেপির পর এবার তৃণমূলের সঙ্গে আঁখি দাসের আঁতাত

Use GNE Bangla App Install Now
Subscribe YouTube Channel