রাজ্য

ডেপুটি স্পিকার সুকুমার হাঁসদার শেষকৃত্য ঘিরে ঝাড়গ্রামে হুলুস্থুল

ঝাড়গ্রাম: শুক্রবার ঝাড়গ্রামের(Jhargram) বিধায়ক তথা রাজ্য বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার সুকুমার হাঁসদার(Deputy speak Sukumar Hansda) মৃতদেহ সৎকার নিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে প্রশাসনের তুমুল গন্ডগোল বাঁধে। অবশেষে বাধ্য হয়ে সুকুমার হাঁসদার তিনকাঠা জমি শ্মশান তৈরীর জন্য গ্রামবাসীকে দান করার পরে, তাঁর দেহ সৎকার করতে দেওয়া হয়। গতকাল সন্ধ্যা বেলায় ঝাড়গ্রামের রঘুনাথপুরের বাড়িতে সুকুমার হাঁসদার মৃতদেহ আনা হয়। পরিবারের তরফ থেকে প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল সাপ ধরা গ্রাম পঞ্চায়েতের দুবরাজপুর গ্রামের দেশের বাড়িতে তাঁর শেষকৃত্য করা হবে।

কিন্তু তার ছেলে সুরজিৎ হাঁসদা তাতে রাজি হননি। তিনি জানান ঝাড়গ্রামের বাড়িতেই তাঁর পিতার শেষকৃত্য করা হবে। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ চলতে থাকে। শেষে স্থির করা হয় জারালাটায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে। দুবরাজপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর উদ্দেশ্যে গান স্যালুট এর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। জারালাটা গ্রামের ক‍্যানেলপাড়ের কাছে তাদের পৈত্রিক জায়গা ছিল। সেখানেই তাঁকে সৎকার করার জন্য নিয়ে আসা হয়। ওই দিন দুপুর বেলাতে জারলাটায় নিয়ে আসা হয় সুকুমার হাঁসদার মৃতদেহ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জল সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ,মানস ভুঁইয়া, অজিত মাহাতো, উত্তরা সিংহ হাজরা। সুকুমার হালদার মৃতদেহ গ্রামের ঢোকানোর পর তার মৃতদেহ কে ঘিরে জড়ো হয় গ্রামবাসী। মৃতদেহ সৎকারের তারা বাধা দিতে থাকে।

তারা দাবী করতে থাকেন, যদি সুকুমার হাঁসদার দেহ এই স্থানে সৎকার করা হয় তাহলে এই স্থানটিকে শ্মশানে হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। সৎকারের জন্য তার দেহ চিতায় তোলার পরে তুমুল গন্ডগোল শুরু হয়। তার দেহ চিতায় তোলার চেষ্টা করা হলে গ্রামবাসীরা চিতা থেকে টেনে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। গ্রামের মহিলারা ঘটনাস্থলে জলের বালতি নিয়ে উপস্থিত হয়। তারা দাবি করেন যদি চিতার আগুন জালানো হয় তাহলে জল ঢেলে তারা নিভিয়ে দেবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়। তারপর পুলিশ চারিদিক থেকে চিতাকে ঘিরে ফেলে। প্রায় টানা এক ঘন্টা মৃতদেহটি চিতার ওপর ছিল। গ্রামবাসীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন এস পি , ডিএম। গ্রামবাসীদের বক্তব্য উনি দুবরাজপুরের বাসিন্দা। তাই ওনার বংশবিস্তার ছেড়ে কিভাবে ওনাকে এখানে দাহ করা যেতে পারে। তাদের বক্তব্য গ্রামের যেখানে সেখানে দাহ করা যাবেনা দাহ করার জন্য শ্মশানে প্রয়োজন। বেশ কিছুক্ষন ধরে বিষয়টি নিয়ে বচসা চলে। এরপর সুকুমার হাঁসদার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় শ্মশান তৈরি করার জন্য সুকুমার হাঁসদার পরিবারের তরফ থেকে তিন কাঠা জমি গ্রামবাসীদের দান করা হবে।

Advertisement with GNE Bangla

একই রকমের খবর

Back to top button
Use GNE Bangla App Install Now
Subscribe YouTube Channel