রাজ্যরাজনীতি

“ভদ্রতা বজায় রাখুন, পাল্টা আমিও বলতে পারি”-বাঁকুড়া সফররত অমিত শাহকে পাল্টা দিলেন মমতা

GNE NEWS DESK: বাঁকুড়া পৌঁছেই তৃণমূল সরকারকে উদ্দেশ্য করে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিলেন অমিত শাহ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েই তিনি তীব্র আক্রমণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। গরিবি হঠাতে বর্তমান রাজ্য সরকারকে ছুঁড়ে ফেলে বিজেপিকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেন রাজ্যবাসীর প্রতি। দিলেন কর্মসংস্থানের প্রতিসূতিও।

বৃহস্পতিবার সাড়ে এগারোটা নাগাদ আকাশপথে বাঁকুড়ায় পৌঁছন অমিত শাহ।পূর্বসূচি অনুযায়ী মালদ্যান করেন বিরসা মুণ্ডার মূর্তিতে। এরপর বলেন, “যে ধরনের দমন নীতি বিশেষ করে বিজেপির নেতা কর্মীদের উপর মমতা সরকার চালাচ্ছে তা দেখে নিশ্চিত ভাবে বলা যায় মমতা সরকারের মৃত্যু ঘন্টা বেজে গিয়েছে। আগামী দিনে এই রাজ্যে বিজেপির দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে।”

এরপর তিনি রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন করেন, “বাংলা একটি সীমান্তবর্তী এলাকা। দেশের সুরক্ষা বাংলার অন্তর্বর্তী সুরক্ষার সাথে যুক্ত। সেই সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য, বাংলার যুব সম্প্রদায়কে কর্মসংস্থান দেওয়ার জন্য আর গরীব মানুষদের তীব্র দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার জন্য এই সরকারকে উপড়ে ফেলে দিন। একটা সুযোগ ভারতীয় জনতা পার্টিকে দিন। আমরা আগামী দিনে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এখানে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা করব।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “মমতা সরকারের প্রতি জনআক্রোশ দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ৮০% জনকল্যাণ মূলক নীতি যার মাধ্যমে রাজ্যের দলিত, আদিবাসী, পিছিয়ে পড়া মানুষজন উপকৃত হওয়ার কথা সেই গুলি রাজ্য সরকার আটকে দিয়েছে।”

পাল্টা কটাক্ষে জবাব দেন তৃনমূল নেতা সৌগত রায়, “দিবাস্বপ্ন। ওনারা সোনার উত্তরপ্রদেশে করতে পারছেন না কেন? ওনারা দলিতদের বাড়িতে খেয়ে নাটক করছেন। মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছেন। বাংলার মানুষ অমিত শাহ র সফরকে উপেক্ষা করবেন।”

জবাব দেন ফিরহাদ হাকিমও, “দলিত রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে অমিত শাহ এখানে এসে নাটক করছেন। দলিত, মতুয়াদের সাথে ওঁরা নেই। শুধু ভোটের সময় মনে পড়ে। বাংলা গুজরাটের ভোটের রাজনীতির কাছে মাথা নিচু করবে না।”

তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মাঠে নেমেছে কংগ্রেসও। আজই দলিত নিগ্রহের প্রতিবাদে কর্মসূচি করছে তারা। অধীর চৌধুরী একযোগে বিজেপি ও তৃনমূলকে নিশানা করেন, “ভোট আসছে। ভোটের আগে ভোটের রাজনীতি শুরু হয়েছে”।

সাংবাদিক সম্মেলনে অমিত শাহের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, “পাল্টা আমিও বলতে পারি। ‘উঠাকে ফেক দো’। সেটাকি ভালো হবে? যার যার নিজস্বতা নিজের কাছে বজায় রাখুন। নেতাজি, নজরুল , বিবেকানন্দ, বিরসা মুণ্ডা আমরা সকলকে শ্রদ্ধা করি। বাংলার বাইরে থেকে লোক এসে যদি মনে করে বাংলার নিজস্বতা ভেঙে দেবে সেটা বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। বাংলা কখনও মাথা নত করে না।”

এই মুহূর্তে এক দলিত বাড়িতে মধ্যাহ্ন ভোজন সেরেছেন অমিত শাহ। আজ বাঁকুড়ায় দিনভর কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। রাতে কলকাতায় ফিরে বিএসএফ কর্তাদের সাথে বৈঠক করবেন অমিত শাহ।

Advertisement with GNE Bangla

একই রকমের খবর

Back to top button
Use GNE Bangla App Install Now
Subscribe YouTube Channel