রাজ্য

জঙ্গলমহল থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহার, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রশাসনিক মহলে

GNE NEWS DESK: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী নভেম্বরের মধ্যে জঙ্গলমহলে সিআরপিএফের দু’টি ব্যাটালয়নকে শিবির প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নির্দেশিকা জারি করে এমনটাই জানিয়েছে সিআরপিএফ কর্তৃপক্ষ। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে জঙ্গলমহলের নিরাপত্তা জনিত উদ্বেগ রাজ্য প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। তাছাড়া এই মুহূর্তে অমিত শাহ বাংলায় সফররত। তাঁর সফর কালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এইরূপ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক তরজা বাড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার সিআরপিএফ-এর তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করে বাংলা, ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং উত্তরপ্রদেশে মোতায়েন মোট ছ’টি ব্যাটালিয়নে রদবদল ঘটানোর কথা বলা হয়েছে। বাংলার জঙ্গলমহলে ৫০ ও ১৬৫ নম্বর ব্যাটালিয়নের ১৪ কোম্পানি বাহিনী মূলত পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন শিবিরে মাওবাদীদের মোকাবিলায় মোতায়েন রয়েছে। এদের মধ্যে ৮ কোম্পানি বাহিনীকে ইতিমধ্যেই বিহারে বিধানসভা ভোটের জন্য পাঠানো হয়েছে। বাকি ৬ কোম্পানি বাহিনীকে ছত্তীসগঢ় এবং মধ্যপ্রদেশে নতুন শিবির তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী ২০ নভেম্বরের মধ্যে জঙ্গলমহল থেকে শিবির গুটিয়ে নিয়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। তাদের জন্য স্পেশ্যাল ট্রেনের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রেলকে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি রাজ্যের মুখ্যসচিবকে জানানো হয়েছে।

শুধু বাংলাই নয়, ঝাড়খণ্ডের ১৯৬, বিহারের ১৩১ এবং ১৫৩ নম্বর ব্যাটালিয়নকেও ছত্তীসগঢ়ে সরিয়ে নিয়েও যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৪৮ নম্বর ব্যাটালিয়নকে উত্তরপ্রদেশ থেকে মধ্যপ্রদেশে পাঠানোর নির্দেশ এসেছে।

ঝাড়গ্রামের কাঁকরাঝো়ড়, বুড়িঝোড় এবং পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের হিলটপ, মাঠা, পাথরবাঁধ এলাকায় বর্তমানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। তাদের অনুপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা বজায় রাখার দায়িত্ব পড়বে রাজ্য সরকারের উপরে। ফলে রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন বাহিনীকে ওই শিবিরগুলিতে মোতায়েন করতে হবে সরকারকে।

সাম্প্রতিক অতীতে জঙ্গলমহলে বিশেষ কোনো ঘটনা মাওবাদীরা ঘটায়নি। কিন্তু রাজ্য প্রশাসনের খবর অনুযায়ী আসন্ন বিধানসভা ভোটকে কেন্দ্র করে সেখানে মাওবাদী গতিবিধি বাড়তে পারে। ফলে আশঙ্কা থেকেই যায় বড় কোন নাশকতার। নিরাপত্তার এই অনিশ্চয়তা চিন্তা বাড়িয়েছে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে।

Advertisement with GNE Bangla

একই রকমের খবর

Back to top button
Use GNE Bangla App Install Now
Subscribe YouTube Channel