প্রথম পাতা ভোট বাংলা আজকের রাশিফল সকালের বাংলা কর্ম সন্ধান পশ্চিম বাংলা বাংলার জেলা ভারতবর্ষ বিশ্ব বাংলা খেল বাংলা প্রযুক্তি বাংলা বিনোদন বাংলা        লাইফস্টাইল বাংলা EXCLUSIVE বাংলা GNE TV
রাজ্যরাজনীতি

তৃণমূলে ক্ষোভ প্রশান্ত কিশোরকে ঘিরেই, সরাসরি মমতার সঙ্গে বৈঠক চাইছেন শুভেন্দু-পন্থী বিদ্রোহীরা

GNE NEWS DESK: বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে তৃনমূলে বিদ্রোহীদের ক্ষোভ ততই বাড়ছে। উষ্মার মূল কারণ যে প্রশান্ত কিশোর তা বারবার প্রকাশ্যে বলেছেন একাধিক তৃনমূল নেতা। এছাড়া এক শ্রেণীর স্বার্থান্বেষী নেতার বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত তৃনমূলের আসন্ন ভাঙন প্রকাশ্যে এসে গেছে। গত বুধবারই বিধানসভায় সচিবের কাছে বিধায়ক হিসাবে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী।

ইস্তফা প্রদানের পরেই বর্ধমানে চলে যান শুভেন্দু। সেখানে কাঁকসার তৃনমূল সাংসদ সুনীল মণ্ডলের বাড়িতে চলে রুদ্ধদ্বার বৈঠক। সুনীলের বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল পুরসভার প্রধান প্রশাসক ও পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি, কালনার বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডু, দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের চেয়ারম্যান দীপ্তাংশু চৌধুরী, শালতোড়ার স্বপন বাউড়ি, গুসকরার প্রাক্তন কাউন্সিলর নিতাই চট্টোপাধ্যায়, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সদস্য নুরুল হাসান এবং আরো কয়েকজন তৃনমূল ও যুব তৃনমূলের নেতা। জানা যাচ্ছে, মূলতঃ প্রশান্ত কিশোরই ছিলেন আলোচনার মূল উপজীব্য।

ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, দলীয় স্তরে বিদ্রোহীরা একাধিক বার নিজেদের সমস্যা জানিয়েছেন। কিন্তু কোন সমাধান হয় নি। সেই কারণেই বর্তমানে দলীয় বিদ্রোহ এতটা তীব্র হয়েছে।

বৈঠকের পর শুভেন্দু অধিকারী নিশ্চুপ থাকলেও মুখ খুলেছেন অন্যান্যরা। জিতেন্দ্র তিওয়ারি জানান, “আমরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আছি। তৃণমূলে দিদি ছাড়া অন্য কাউকে নেতা মানব না। দিদি ছাড়া কারও সঙ্গে কিছু কথা বলব না।”

সুনীল মণ্ডল সাংবাদিকদের জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কারও কোনও ক্ষোভ নেই। আমাদের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে তাই আমরা আজ বিদ্রোহের কথা বলেছি। আমাদের প্রশ্ন, এত কিছুর পরও কেন দল সংশোধন হচ্ছে না?‌ এই একটাই ক্ষোভ সবার মধ্যে দেখা যাচ্ছে। সবারই ক্ষোভ প্রশান্ত কিশোর ও তাঁর সংস্থা আই প্যাকের বিরুদ্ধে। আইপ্যাকের লোকজন এসে বলছে এই করুন, সেই করুন, মিছিল করুন। কোন জামা পরে আসব সেটাও বলে দিচ্ছে ওরা। ওরা কী এটাকে বিহার ওড়িশা পেয়ে গিয়েছে। বাংলার রাজনীতি এভাবে হয় না। ওরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভুল বোঝাচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভুল বোঝাচ্ছে।”

বিদ্রোহীরা দলত্যাগ চাইছেন না তাও সুনীলবাবুর পরবর্তী বক্তব্যে স্পষ্ট। তাঁরা মূলত চাইছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক। সুনীল বলেন, “দিদি আমাদের সঙ্গে একবার বৈঠকে বসলেই হয়তো সব সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু তিনিই যদি না বসেন তখন আমাদেরও আর বিকল্প কথা ভাবা ছাড়া গতি থাকবে না। আইপ্যাক আর প্রশান্ত কিশোরের জন্যই আজ এই অবস্থা। দলের সঙ্গে আলোচনার পথ এখনও খোলা। তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব যদি প্রশান্ত কিশোরকে বাদ দিয়ে কোনও আলোচনা করতে চায়, তবে আমরা তাতে রাজি।”

সুনীল মন্ডলের বক্তব্যেই স্পষ্ট বিদ্রোহীরা এখনও খোলা রেখেছেন আলোচনার দরজা। কিন্তু তাঁদের দাবি দলনেত্রী সমস্যার গুরুত্ব বুঝে আলোচনায় বসুন। এখন দেখার তৃনমূল নেত্রী এই বিষয়ে শুভেন্দু-পন্থী বিদ্রোহীদের কি বার্তা দেন।

Advertisement with GNE Bangla

একই রকমের খবর

Back to top button
Use GNE Bangla App Install Now
Subscribe YouTube Channel