প্রথম পাতা করোনা আপডেট আজকের রাশিফল সকালের বাংলা কর্ম সন্ধান পশ্চিম বাংলা বাংলার জেলা ভারতবর্ষ বিশ্ব বাংলা খেল বাংলা প্রযুক্তি বাংলা বিনোদন বাংলা লাইফস্টাইল বাংলা EXCLUSIVE বাংলা GNE TV
রাজ্যভোটযুদ্ধ

নির্বাচনে হারের সম্মুখীন দলবদলকারী নেতারা, জেনে নিন তাঁদের হালহকিকত

GNE NEWS DESK: রাজ্যে বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে একের পর এক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন এবং দলে থেকেও ল্যাম্পপোস্ট হয়ে থাকার অভিযোগ এনে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন মহা ধুমধাম করে। দিল্লি থেকে চ্যাটার্ড ফ্লাইট এসেছিল তাতে সওয়ার হয়ে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন তাঁদের অনেকেই। সেই সময় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছিলেন, রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত বুঝেই এই দল পাল্টা পাল্টি। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসার পর অনেক হিসাবই গুলিয়ে গিয়েছে। একমাত্র শুভেন্দু অধিকারী ছাড়া কোন দলবদলকারী তৃণমূল নেতা জয় পাননি।

দেখে নেওয়া যাক সেই নেতাদের হালহকিকত-

১. শুভেন্দু অধিকারী- দলের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েকমাস চলছিল লুকোচুরি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক জল্পনা তাঁকে নিয়ে সামনে এসেছিল। আক্রমণ ধেয়ে এসেছিল তৎকালীন সহকর্মীদের কাছ থেকেও। কিন্তু মুখ খোলেননি তিনি। অবশেষে একে একে মন্ত্রিত্ব, বিধায়ক পদ, প্রশাসনিক পদ, তৃণমূলের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন শুভেন্দু। এরপর যোগ দেন বিজেপিতে। যোগ দেওয়ার পর প্রাক্তন দল ও দলীয় নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ উগরে দেন। নন্দীগ্রামে তৃণমূলকে ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর প্রতিশ্রুতি দেন শুভেন্দু। নিজে নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন অধিকারী-পুত্র। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত জয় ও মমতাকে হারানো অন্তরালে চলে গিয়েছে তৃণমূলের বিপুল সার্বিক জয়ে। তাই সমাজমাধ্যমে নিজের জয়ের সার্টিফিকেট শেয়ার করলেও প্রকাশ্য রাজনৈতিক মন্তব্য থেকে বিরত তিনি। আশ্রয় নিয়েছেন শান্তিকুঞ্জেই।

GNE

২. রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়- শুভেন্দু অধিকারীর পর তৃণমূল-ত্যাগী দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন রাজীব। চ্যাটার্ড ফ্লাইটে দিল্লি গিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন প্রাক্তন বনমন্ত্রী। প্রার্থী হন নিজের কেন্দ্র ডোমজুড়ে। কিন্তু কল্যাণ ঘোষের কাছে হেরেছেন প্রায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে। তারপর থেকে সংবাদ মাধ্যম বা নিজের ঘনিষ্ঠ মহলে নিশ্চুপ তিনি। যদিও সমাজমাধ্যমে বিবৃতি প্রকাশ করে মানুষের রায়কে সন্মান জানিয়ে হার স্বীকার করেছেন। তাঁকে ১০ বছর বিধায়ক থেকে কাজের সুযোগ দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে অভিনন্দিত করেছেন বিজয়ী প্রতিদ্বন্দ্বীকে।

৩. প্রবীর ঘোষাল- অমিত শাহের পাঠানো চাটার্ড বিমানে চেপে যে কজন তৃণমূল বিধায়ক বা নেতা বিজেপিতে যোগ দিতে দিল্লি উড়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হুগলি উত্তরপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক। তিনি একই আসনে অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিকের কাছে প্রায় ৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। আর হারের পর থেকেই একা সময় কাটাচ্ছেন।

৪. বৈশালী ডালমিয়া- ২০১৬ সালে তৃণমূলের টিকিটে বালির বিধায়ক হন। কিন্তু দলের একাংশের মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। তাঁকে বহিরাগত ও কলকাতার বাসিন্দা তকমা দিয়ে পোস্টার পড়ে বালিতে। এরপর দলের একাংশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন বৈশালী। এরপর নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্রেই ফের বিজেপির টিকেটেই প্রার্থী হন। কিন্তু ভোটযুদ্ধে হেরে গিয়ে আপতত গৃহবন্দী তিনি।

৫. রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য- দলবদল করে হারের পর একমাত্র মুখ খুলেছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক। সিঙ্গুরের প্রাক্তন বিধায়ক স্বীকার করেছেন তৃণমূল ত্যাগ ও বিজেপির প্রার্থী হওয়া ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। যদিও রাজনীতিতেই থাকবেন জানিয়ে এই ৯০ ঊর্ধ্ব সমস্ত দলের কাছে ও খোদ তৃণমূল নেত্রীর কাছে সম্মানীয় এই রাজনীতিক নিজের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ এখনও স্পষ্ট করেননি।

Related Articles

x