Corona Virusরাজ্য

করোনা কে জব্দ করার ওষুধ খুঁজে পেলেন ক্যালিফোর্নয়ার ভারতীয় বিজ্ঞানী!

Indian scientist from California found the drug to seize Corona!

GNE NEWS DESK: এখনো অব্দি করোনাকে জব্দ করার মত কোন অব্যর্থ ওষুধ তৈরি করা হয়ে উঠেনি। সেই রেমডেসিভির, ফ্যাভিপিরাভির, টোসিলিজুমাবের মতো পুরনো ওষুধ দিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। সার্স-কভ-২ আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) ভাইরাসের প্রোটিন নষ্ট করে দিতে পারে এমন উপাদানের খোঁজ বহুদিন ধরেই করছেন বিজ্ঞানীরা।এরই মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির এক ভারতীয় বিজ্ঞানী দাবি করলেন , তিনি এমন কিছু উপাদানের খোঁজ পেয়েছেন যা দিয়ে ওষুধ তৈরি হলে ভাইরাসের কোষে ঢোকার রাস্তাও আটকানো যাবে আবার প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বাড়ার ক্ষমতাও নষ্ট হবে।

ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির এই অধ্যাপক-গবেষক ডক্টর আনন্দশঙ্কর রায় বলেন, তিনি ও তাঁর টিম এমন ১০০ টির বেশি কম্পাউন্ডের খোঁজ পেয়েছেন যাদের করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। প্রতিটি উপাদানেই রয়েছে অ্যান্টি-ভাইরাল গুণ যা ভাইরাসের বিভাজন ক্ষমতাকে থামিয়ে দিতে পারে।

ডক্টর আনন্দশঙ্কর বলেছেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সকে কাজে লাগিয়ে এমন ড্রাগ ক্যান্ডিডেটের খোঁজ পাওয়া গেছে। কোটি কোটি কম্পাউন্ডের মধ্যে থেকে কার্যকরী উপাদান স্ক্রিনিং করা বা খুঁজে বের করার জন্য যে পদ্ধতির প্রয়োগ করেন বিজ্ঞানীরা তাকে বলা হয় ‘ড্রাগ ডিসকোভারি পাইপলাইন’(Drug Discovery Pipeline)। এটি একধরনের কম্পিউটার অ্যালগোরিদম যা চালানো হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে’। ডক্টর আনন্দশঙ্কর জানাচ্ছেন, আগে এই কাজ করতে অনেক সময় লেগে যেত। প্রায় কয়েক বছর। কিন্তু এখন কম্পিউটার অ্যালগোরিদমে এই কাজই খুব তাড়াতাড়ি করা সম্ভব।’

এখন প্রশ্ন হল ঠিক কি খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা?
ডক্টর আনন্দশঙ্কর এর কথায় ‘ আমরা প্রায় ২০ কোটি উপাদানের খোঁজ পেয়েছি যাদের অ্যান্টি-ভাইরাল গুণ আছে। এদের মধ্যে এক কোটি ড্রাগ ক্যান্ডিডেটকে স্ক্রিনিং করে বের করা হয়েছে। এর মধ্যে থেকেও স্ক্রিনিং করে ১০০টি ক্যান্ডিডেটকে বেছে নেওয়া হয়েছে যারা আরএনএ ভাইরাল স্ট্রেন নষ্ট করতে পারবে।সার্স-কভ-২ ভাইরাস মানুষের দেহকোষের ACE-2 রিসেপটর প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কোষের ভেতর ঢুকতে পারে। মূলত এই রিসেপটর প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয় ভাইরাসের স্পাইক (S) গ্লাইকোপ্রোটিন। এই স্পাইক আরএনএ প্রোটিনের কাজ হল দেহকোষের রিসেপটরগুলোকে খুঁজে বার করা। বিভিন্ন অঙ্গের কোষে এমন রিসেপটর প্রোটিন থাকে যারা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা প্যাথোজেনকে কোষে ঢুকতে বাধা দেয়। এই ধরনের রিসেপটরকে কব্জা করতে পারলেই কোষে ঢোকার রাস্তা সহজ হয়ে যায়। আর একবার কোষে ঢুকতে পারলেই ভাইরাস খুব দ্রুত বিভাজিত হয়ে প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে’।

ভারতীয় বংসৌদ্ভূত এই গবেষকের দাবি, ‘মানুষের শরীরে এমন ৬৫টি প্রোটিনের খোঁজ মিলেছে যার সঙ্গে ভাইরাল প্রোটিন যুক্ত হতে পারে। মানুষের দেহকোষের এই রিসেপটর প্রোটিনগুলি বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে রয়েছে। তাই দেখা যাচ্ছে, ভাইরাস শুধু ফুসফুস নয় হার্ট, লিভার, কিডনি, খাদ্যনালী সহ শরীরের একাধিক অঙ্গের কোষে সংক্রমণ ছড়াতে পারছে। তাই আমাদের এমন ড্রাগ ক্যান্ডিডেট খুঁজে বের করতে হবে যারা রিসেপটর প্রোটিনের সঙ্গে ভাইরাল প্রোটিনের যুক্ত হওয়ার এই প্রক্রিয়াটাকে থামিয়ে দিতে পারে। আবার ভাইরাস যদি কোষে ঢুকেও যায় তাহলে প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বাড়ার ক্ষমতাকে আটকে দিতে পারে। এই একশো রকমের ড্রাগ ক্যান্ডিডেটের সেই ক্ষমতা রয়েছে। এদের থেকে ওষুধ তৈরি হলে তা কার্যকরী হবে বলেই আশা করা যায়।’

সুতরাং ভ্যাকসিনের পাশাপাশি এই সব ওষুধ নিয়েও বেশ কিছুটা আসার আলো দেখছেন সাধারণ মানুষ। তবে সঠিক গবেষণা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার পরই একে উৎপাদন করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ওই বিজ্ঞানী।
Tags:করোনা কে জব্দ করির ক্যালিফোর্নিয়ার ভারতীয় বিজ্ঞানী

Tags
Advertisement with GNE Bangla

একই রকমের খবর

Back to top button
Use GNE Bangla App Install Now
Subscribe YouTube Channel
Close