More

    শ্বেতী বা ধবল রোগ কী? কীভাবে পাবেন শ্বেতী থেকে মুক্তি

    শ্বেতী কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। কারোর গায়ে শ্বেতী থাকলে তাকে স্পর্শ করলে যে আপনারও হয়ে যাবে এই ভ্রান্ত ধারণা দূর করুন। মনে রাখবেন, এটি কোনও ভয়াবহ রোগ নয়। শ্বেতী নিয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায়, অকারণেই অনেকে আতঙ্কে থাকেন। সামাজিক পরিস্থিতির কারণে মানসিক অবসাদ ঘিরে ধরে তাদেরকে।

    spot_img

    Must Read

    শ্বেতী এক ধরনের ত্বকের রোগ। মানুষের ত্বকের স্বাভাবিক রং হারিয়ে সাদা রং ধারণ করে। শ্বেতী রোগ শরীরের যেকোনো অংশে আক্রান্ত করতে পারে। ত্বকে মেলানিন উত্‍পাদক কোষ তার সঠিক কাজ করতে ব্যর্থ হলে এই স্বাতী রোগ দেখা দেয়। তবে এই রোগ জীবনের জন্য হুমকি নয় বরং এটি একটি স্বয়ংক্রিয় ইমিউন অবস্থা যা ইমিউন সিস্টেম ত্বককে আক্রান্ত করে। শ্বেতীর থেকে মুক্তি চাইলে দেরি না করে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় ওষুধের সাহায্যে বা ন্যারো ব্যান্ড আল্ট্রাভায়োলেট (এনবি-ইউভি) ফোটোথেরাপিতে অনেক সময়েই শ্বেতী সেরে যায়। এছাড়া হরমোনজাতীয় ওষুধ খাওয়া, কসমেটিক সার্জারি এরোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

    করোনার অতিমারির সময়ে শ্বেতীর চিকিৎসায় কোনও বাধা নেই। শ্বেতীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত অতি বেগুনি রশ্মি কোভিড-১৯ ভাইরাসকে ধ্বংস করে ফেলে। তাই শ্বেতী ধরা পড়লেই দ্রুত চিকিৎসা করাতে হবে।

    শ্বেতী কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। কারোর গায়ে শ্বেতী থাকলে তাকে স্পর্শ করলে যে আপনারও হয়ে যাবে এই ভ্রান্ত ধারণা দূর করুন। মনে রাখবেন, এটি কোনও ভয়াবহ রোগ নয়। শ্বেতী নিয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায়, অকারণেই অনেকে আতঙ্কে থাকেন। সামাজিক পরিস্থিতির কারণে মানসিক অবসাদ ঘিরে ধরে তাদেরকে।

    ত্বকের মধ্যের মেলানোসাইট কোষে থাকে মেলানিন, যা ত্বকের স্বাভাবিক রঙের ভারসাম্য রক্ষা করে। মেলানিনের ক্রিয়াকলাপে বাধা সৃষ্টি হলে বা ভারসাম্য নষ্ট হলেই দেখা দেয় শ্বেতী। শ্বেতী বংশগতভাবেও হয়। প্রতি ১০০ জন শ্বেতী রোগীর মধ্যে ৩০ জনের ক্ষেত্রেই শ্বেতী হয় বংশগত ধারায়, মাতৃকুল বা পিতৃকুলের কারও না কারও থেকে জিনের প্রভাবে। বাকি ৭০ শতাংশের ক্ষেত্রে শ্বেতী সাদা দাগ ছড়াতে থাকে নিজস্ব কারণে, যার মূলে রয়েছে মেলানিনের কারসাজি! বর্তমানে সারা বিশ্বে প্রায় ১০ কোটি মানুষ শ্বেতীতে আক্রান্ত।

    সাধারণত মুখমণ্ডল, কনুই, বুকেই প্রথমে শ্বেতী দেখা দেয়। আবার শ্বেতী চোখের পাশ দিয়ে, নাকের দুপাশে বা ঠোঁটের কোণ বা উপর দিয়েও শুরু হয়।

    ত্বকের নির্দিষ্ট জায়গায় যেখানে ত্বকের মধ্যে মেলানিনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, সেখানে দেখা দেয় শ্বেতী। কিন্তু সারা শরীর জুড়ে যদি এই সমস্যা থাকে তাহলে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে বোঝাই না গায়ের রং আসলে কী ছিল! শরীরে যদি শ্বেতীর সম্ভাবনা থাকে তাহলে ১০ বছর বয়স থেকে তা দেখা দেবে।

      চোখ রাঙাচ্ছে তৃতীয় ঢেউ! মেদিনীপুরে জ্বর-শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা, চলছে ওষুধের হাহাকার

    চিকিৎসকদের পরামর্শ নিন। যে মলম পেসক্রাইব করবে তা নির্দিষ্ট সময়ে নিয়ম মেনে রোজ লাগান। সম্পূর্ণ সেরে ওঠা সময় সাপেক্ষ। শুরু থেকেই পরিচর্যায় থাকতে হবে। পাঞ্চ গ্রাফটিং করে শ্বেতী সরিয়ে ফেলা যায়। যত অল্প বয়সে শ্বেতীর চিকিত্‍সা করা যায় তত ভালো। ডায়াবেটিস, হাইপার থাইরয়েড যাদের রয়েছে, তাদের শ্বেতী হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।

      চোখ রাঙাচ্ছে তৃতীয় ঢেউ! মেদিনীপুরে জ্বর-শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা, চলছে ওষুধের হাহাকার

    শ্বেতী রোগ থেকে মুক্তির উপায়

    প্রত্যেকের আন্ত্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ইমিউন সিস্টেম পরীক্ষা করা। মানসিক চাপ প্রদাহ ঘটায় যা খাদ্য নালীকে দুর্বল করে তুলে, ফলে ইমিউন সিস্টেমকে এই রোগ সহজেই আক্রমণ করে ফেলে। তাই আক্রান্তদের মানসিক চাপের অবসান ঘটাতে হবে।

    ক্যাফিন, ডার্ক চকোলেট, গ্লুটেন, দুধ বা দুগ্ধজাত পণ্য, সাদা চিনি এবং সাইট্রাস ফলের মতো কিছু খাবার শ্বেতী রোগকে বাড়িয়ে তুলবে, তাই আপনি এগুলো বর্জন করুন।

    হলুদের গুঁড়ার সঙ্গে সরিষার তেল ,মিশিয়ে একটানা ১৫ দিন ত্বকে লাগালে এই রোগ হ্রাস পেতে পারে।

    কাঠবাদাম শ্বেতী রোগ দূর করতে বেশ কার্যকরী। অথবা পেঁপের ভেতরের অংশ আক্রান্ত স্থানে ঘষলে এই রোগ হ্রাস পেতে পারে।

    মদ্যপান করা যাবে না। ফলের মধ্যে আঙ্গুর, কমলালেবু, ব্লুবেরিজ, গুজবেরিজ, আচার, কমলালেবু, বেদানা, পেয়ারা, ব্লুবেরিজ, গুজবেরিজ খাবেন না। এছাড়া দই, মাছ, সমুদ্রের মাছ, কাঁচা টমেটো, কাঁচা রসুন, জাঙ্ক ফুড, কফি, চকোলেট, তেঁতুল খাওয়া উচিত নয়।

    বেশি করে খাবেন খুরমা খেজুর, সবুজ মটরশুটি, শালগম, পালং শাক, এপ্রিকট, মেথি, ডুমুর, সবুজ শাকসবজি, আম, পেঁয়াজ, পেস্তা, আলু, পিউর ঘি, মুলা, লাল মরিচ, শাকসবজি, আখরোট, গম। কোষ্ঠকাঠিন্য দোষ থাকলে দূর করতে হবে। দুধ, ছানা, মাখন, স্নেহজাতীয়, ফলের রস ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্য বেশি বেশি খাবেন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা ভালো।

    এই প্রতিবেদনটির জন্য তথ্য ইন্টারনেটে থেকে সংগৃহীত করা হয়েছে। তাই এর সঙ্গে GNE BANGLA কোন ভাবেই যুক্ত নেই। পাঠক পাঠিকাদের কাছে অনুরোধ রইল চিকিৎসা জনিত সমাধানের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অবশ্যই নেবেন।

    - Advertisement -

    Latest News

    গাড়িতে উঠলেই বমি হয়? বমি থেকে মুক্তি দিতে পারে এই ঘরোয়া টেকনিক

    প্রয়োজনে কিংবা শখের বসে বাইরে কোথাও ঘুরতে গেলে সঙ্গে নিজের শিশুকেও নিয়ে যান অনেকেই। কিন্তু শিশুকে গাড়িতে চড়ালেই দেখা...
    - Advertisement -

    More Articles Like This

    - Advertisement -