মানুষের সঙ্গে থাকতে থাকতে রঘু ডাকাতের ন্যায় হাতিও সিঁদ কাটতে শিখল গৃহস্থের দেওয়ালে

মানুষের সঙ্গে থাকতে থাকতে রঘু ডাকাতের ন্যায় হাতিও সিঁদ কাটতে শিখল গৃহস্থের দেওয়ালে 1
4 February 2020, 9:34 pm, 1035 Views

ধনঞ্জয় দেব সিংহ:একটা সময় ছিল যখন চোরেরা সিঁদ কাটত। তীক্ষ্ণ সিঁদ কাঠির সাহায্যে দেওয়ালের গায়ে এমন নিঃশব্দে তারা সিঁদ কাটত যে গৃহস্থ জানতেই পারত না। সকালে জেগে দেখত দেওয়ালে সিঁদ কাটা। চুরি গেছে ধান, চাল, ছাগল, ভেঁড়া, থালা, ঘটি আরও কত কি। বেশ কিছু বছর সিঁদকাটার কথা মানুষ ভুলেই গেছল।

আজ সকালে শালবনি ব্লকের মধুপুর গ্রামের নবকুমার দেবসিংহের প্রাচীরের দেওয়ালের ছিদ্র দেখে সিঁদ কাটার কথা মনে পড়ল মানুষের। তবে কোনো চোরে নয়, সাক্ষাৎ এক হাতি গত রাতে লাথ মেরে দেওয়ালে সিঁদ কেটে ঘরের ভেতরের বস্তা বন্দী ধান খেয়ে গেল। শুধু মধুপুর নয়, পার্শ্ববর্তী জামিরগোট, মেমূল, মহিষডোবা, গাডরা প্রভৃতি গ্রামেও গত রাতে দাপিয়ে বেড়িয়েছে ঐ বৃহদায়তন গজরাজ। উল্লেখ্য, বেশ কয়েকদিন ধরে ঐ হাতিটি পাশাপাশি জঙ্গলেই অবস্থান করছে। সারা দিন জঙ্গলে থাকছে, রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে কোনো না কোনো গ্রামে ঢুকছে। মানুষজন জঙ্গল রাস্তা পেরোচ্ছে ভয়ে ভয়ে। দরকারে রাতবিরেতে ঘর থেকে বেরোতেও সাহস পাচ্ছে না। ঘরের ভিতর ঘুমাতেও ভয়। যেভাবে হাতি দেওয়াল ভাঙছে, একদিন না শুঁড়ে বেজিয়ে মানুষকেও ঘর থেকে টেনে বার করে আনে।

তাছাড়া দেওয়াল চাপা পড়ারও ভয় আছে। ইদানিং তো হাতি বড় নৃশংসও হয়ে গেছে। মানুষকে মারছে ছিঁড়ে ছিঁড়ে। ফসলের ক্ষতি, বনরাস্তা পেরোতে ভয়, রাতে ঘুমাতে ভয়, জঙ্গলমহলের মানুষ আজও ভীত -সন্ত্রস্ত। এই সন্ত্রাসের সঠিক মোকাবিলা নিয়ে কেউ কি দাঁড়াবে না পাশে???

Leave a Comment.