প্রথম পাতা ভোট বাংলা আজকের রাশিফল সকালের বাংলা কর্ম সন্ধান পশ্চিম বাংলা বাংলার জেলা ভারতবর্ষ বিশ্ব বাংলা খেল বাংলা প্রযুক্তি বাংলা বিনোদন বাংলা        লাইফস্টাইল বাংলা EXCLUSIVE বাংলা GNE TV
রাজনীতিরাজ্য

চলতি সপ্তাহে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন শুভেন্দু, নাম না করে ‘বহিরাগত’ ও ‘দলতন্ত্র’ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ দলকে

GNE NEWS DESK: মন্ত্রিত্ব আগেই ছেড়েছেন। তবে দলত্যাগ ও বিধায়কপদ ত্যাগ নিয়ে বার্তা এখনও দেন নি শুভেন্দু। এবার রাজনৈতিক গুঞ্জন বজায় রেখে হলদিয়ার ‘অরাজনৈতিক’ সভা থেকে নাম না করে ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব এবং ‘গণতন্ত্র’ নিয়ে তৃনমূলকে তীব্র কটাক্ষ করলেন তিনি।

মঙ্গলবার প্রয়াত স্বাধীনতা সংগ্রামী সতীশ সামন্তের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে হলদিয়ার কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেখানে তিনি বলেন, “জওহরলাল নেহরু প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সতীশ সামন্তকে সব সময় সমীহ করে চলতেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভারত থেকে যে সব প্রতিনিধি দল গিয়েছিল, সে দলে সতীশ বাবু প্রতিনিধিত্ব করতেন। সতীশ বাবু এগিয়ে গেলেই প্রধানমন্ত্রী উঠে দাঁড়াতেন। সতীশবাবু কখনও জওহরলাল নেহরুকে বহিরাগত ভাবতেন না। আর পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু কখনওই সতীশবাবুকে কখনও বাংলাভাষী ভাবতেন না। এটাই ভারতবর্ষ।”
আরও বলেন, “রাজনৈতিক পথ, মত যা-ই ঘটুক না কেন, যা-ই স্থিতাবস্থা থাকুক না কেন, যে পদে আমরা থাকি না কেন, আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়, আমরা প্রথম ভারতীয়, তার পরে আমরা বাঙালি।”

এরপরেই রাজনৈতিক প্রসঙ্গে নাম না করে নিজের দলের নীতিকে তীব্র কটাক্ষ করেন শুভেন্দু, “আমরা দেশমাতৃকাকে বন্দন করব। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান করব, কৃষকের অধিকার ফেরাব আর মিলেমিশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই হবে আমাদের একমাত্র পথ। গণতন্ত্র ফেরানোর লড়াইয়ে আপনাদের সেবক শুভেন্দু অধিকারী থাকবে।”
এরপরেই তিনি আক্রমণ শানান ‘দলতন্ত্র’ প্রসঙ্গে। বলেন, “কেন এখানে ফর দ্য পার্টি, বাই দ্য পার্টি, অব দ্য পার্টি ব্যবস্থা থাকবে! আমরা ভাল কাজের জন্য লড়ব। সংবিধান যে বলে গিয়েছে, গণতন্ত্র ফর দ্য পিপ্‌ল, বাই দ্য পিপ্‌ল, অব দ্য পিপ্‌ল, সেটা পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে আনতে হবে।”

এখানেই থামেননি শুভেন্দু অধিকারী। কটাক্ষ ও আক্রমণ বজায় রেখে তাঁর মন্তব্য, “যাঁরা আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছেন, শুনে রাখুন, আমি অনেক লড়াইয়ের সাক্ষী। এই জায়গায় পৌঁছতে আমায় বাধা দেওয়া হয়েছে। এর আগে আমার উপর ১১ বার আক্রমণ করা হয়েছে। কিন্তু জনশক্তি, যুবশক্তি, মাতৃশক্তির আশীর্বাদ আমায় ঠিক জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।”

মুখ খুলেছেন নিজের ব্যক্তিগত জীবন প্রসঙ্গেও, “অনেক বলেন, কেন আমি অকৃতদার। বর্তমান যুগের রাজনীতিকদের দেখে আমি অকৃতদার হইনি। সতীশ সামন্ত, সুশীল ধাড়ার মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দেখে অকৃতদার হয়েছি। শুভেন্দুর পরিবার বাংলা, বাঙালির পরিবার। চার-পাঁচজনের পরিবার নয়। সতীশ সামন্ত যে পথ দেখিয়েছেন, সেই পথেই শুভেন্দু হাঁটবে। আগামিদিনে গ্রাম জিতবে। জেলা জিতবে।”

এমনকি নন্দীগ্রাম আন্দোলন প্রসঙ্গেও তাঁর আক্রমণ ধেয়ে আসে। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রাম আন্দোলন ছিল মানুষের আন্দোলন। মানুষই সেই আন্দোলনে জয়ী হয়েছে।”

শুভেন্দুর সঙ্গে দলের সম্পর্কের অবনতির সাথে সাথে বিভিন্ন দলীয় নেতার তরফ থেকে তীব্র ব্যক্তিগত আক্রমণ ধেয়ে এসেছে শুভেন্দুর দিকে। এতদিন পর্যন্ত তিনি সেই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন নি। হলদিয়ার সভা থেকে জবাব দিলেন সেই সব আক্রমণেরও। বলেন, “অনেকে বলেছিলেন, আমি মন্ত্রী আছি বলে আমার সভায় লোক আসে। শুভেন্দু অধিকারী পদের লোভ করে না। ২৭ নভেম্বর আমি মন্ত্রিত্ব ছেড়েছি। তা-ও মানুষ আমার সভায় এসেছেন। আসছেন। আমার এই সভার লোক বিজেপি আনেনি, সিপিএম আনেনি, কংগ্রেস আনেনি, তৃণমূলও আনেনি।”
গণতন্ত্রে জনগনের প্রাধান্য বিষয়ে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিভিন্ন পূর্বসূরীদের প্রসঙ্গও। তৃনমূলের বিক্ষুব্ধ নেতা বলেন, “আমি ব্যক্তি আক্রমণ করি না। কিন্তু আমার নামে অনেকে অনেক কিছু বলেছেন। ব্যক্তি আক্রমণ করেছেন। তাঁরা অনেক বড় বড় পদে আছেন। তাঁরা জেনে রাখুন, জনগণ যখন চটঘেরা জায়গাটায় গিয়ে আঙুলটা টিপবে, তখন আপনাদের অবস্থাও অনিল বসু, লক্ষ্ণণ শেঠ আর বিনয় কোঙারদের মতো হবে।”

মঙ্গলবার নিজের বক্তব্যতে শুভেন্দু অধিকারী বিভিন্ন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে সমস্ত বিষয় টেনেছেন। রাজনৈতিক মহল পরিস্থিতি বিচার করে বলছে বিভিন্ন দলীয় বিষয়ে মুখ খোলার পর শুভেন্দুর বিজেপিতে যোগদান কেবল সময়ের অপেক্ষা। চলতি সপ্তাহেই রাজ্য সফরে আসার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহের। সেই সময়েই শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক পদক্ষেপ নির্নায়ক ‘বড় ঘোষণা’র অপেক্ষার রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

Advertisement with GNE Bangla

একই রকমের খবর

Back to top button
Use GNE Bangla App Install Now
Subscribe YouTube Channel