প্রথম পাতা ভোট বাংলা আজকের রাশিফল সকালের বাংলা কর্ম সন্ধান পশ্চিম বাংলা বাংলার জেলা ভারতবর্ষ বিশ্ব বাংলা খেল বাংলা প্রযুক্তি বাংলা বিনোদন বাংলা        লাইফস্টাইল বাংলা EXCLUSIVE বাংলা GNE TV
রাজ্যরাজনীতি

“তোলাবাজ ভাইপো হঠাও”, স্লোগান তুলে বিজেপিতে শুভেন্দু, জনপ্রিয়তায় পিছনে ফেললেন অমিত শাহকেও

GNE NEWS DESK: রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্ববৃহৎ দলবদল। মেদিনীপুরের কলেজ মাঠের মঞ্চে জনসমুদ্রকে সাক্ষী রেখে বদলে গেল শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক পরিচয়। তৃনমূলের প্রাক্তন বিধানক, সাংসদ, মন্ত্রী আজ থেকে বিজেপির একনিষ্ঠ কর্মী। নিজেকে এই ভাবেই উপস্থাপিত করলেন শুভেন্দু। পাশে অমিত শাহ, দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, রাহুল সিনহার মতো একাধিক তাবড় বিজেপি নেতাকে পাশে নিয়ে একের পর এক স্লোগানে জনসমুদ্রে তুললেন সমুদ্র গর্জন।

দীর্ঘ কয়েকমাস তাঁর রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে উত্তপ্ত থেকেছে রাজ্য রাজনীতি। দল ছাড়ার আগেই তৃণমূল থেকে ধেয়ে এসেছে কদর্য রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আক্রমণ। তাতেও মুখ খোলেননি শুভেন্দু। ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিধায়ক ও তৃণমূলের সদস্যপদ ত্যাগের পর জুটেছে ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমাও। তাও নীরব ছিলেন। যেন তাঁর সমস্ত নীরবতা অপেক্ষায় ছিল আজকের দিনের। মেদিনীপুরের সভা মঞ্চে বিজেপির হাত ধরে নীরবতা ভঙ্গ করে সুতীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন প্রাক্তন দলের উদ্দেশ্যে। সমস্ত আক্রমণ প্রতি আক্রমণ হয়ে আছড়ে পড়ল তৃণমূল শিবিরে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ‘বড়ভাই’ সম্বোধন করে শুভেন্দু বললেন, “তিনি আমাকে কখনই বিজেপিতে যোগ দিতে বলেননি। তৃণমূলে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা। আত্মসম্মান নিয়ে বিজেপিতে থাকা সম্ভব নয়। মুকুল রায় আমাকে বলেছিলেন আত্মসম্মান হারিয়ে দলে থাকিস না। শুভেন্দু মাতব্বরি করতে বিজেপিতে আসেনি, পতাকা লাগাতে বললে বা দেওয়াল লিখতে বললেও লিখব।” বলেছেন, “আমি ছাত্র রাজনীতি করে আসা লোক। একদিনে এখানে আসিনি। ধাপে ধাপে সিঁড়ি পেরিয়ে পৌঁছেছি।”

তাঁকে বিশ্বাসঘাতক বলার জবাবও দেন শুভেন্দু। ভগিনী নিবেদিতার বিবেকানন্দ সম্বন্ধীয় লেখা উল্লেখ করে ‘মা’ শব্দটি ‘দেশমাতৃকা’ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করেন তিনি। বলেন, “আমাকে বিশ্বাসঘাতক বলছে। কারা বলছে? অনেকে বলছেন মাযের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। আমার মা গায়ত্রী দেবী। আর এই দেশ আমার মা। আর কেউ আমার মা নয়।” এছাড়াও শুভেন্দু বলেন, “নব্বইয়ের দশকে এনডিএ র শরিক না হলে আজ তৃণমূলের অস্তিত্ব থাকত না। যারা একসময় ভারতরত্ন অতলজীর আশীর্বাদ না পেলে বাইরে বের হতে পারত না, তারাই আজ বিশ্বাসঘাতক বলছে।”

অসুস্থতার সময়েও দলের বিরুদ্ধে তাঁর খোঁজ না নেওয়ার অভিযোগ করে অমিত শাহের সঙ্গে অতীত সুসম্পর্কর প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “উত্তরপ্রদেশে বিশাল জয়ের পর দিল্লিতে আমার সঙ্গে অমিত শাহের সাক্ষাৎ হয়। যখন করোনা আক্রান্ত হয়েছিলাম, কখন দলের কেউ খোঁজ নেয়নি। অথচ তাদের জন্য আমি অকৃতদার থেকে কাজ করেছি। অমিত শাহ আমার খোঁজ নিয়েছিলেন।”

নিজের বক্তব্যে বারবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন শুভেন্দু। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন, “রাজনৈতিক কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প রাজ্যে চালু করা হয়নি। বদলে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রকল্পের নাম।”
তাই সওয়াল করেছেন রাজ্যে বিজেপি শাসনের পক্ষে, “আমি মনেপ্রাণে চাই, কলকাতা এবং দিল্লিতে এক সরকার থাকুক। মোদীর হাতে বাংলাকে না তুলে দিলে রাজ্যের সর্বনাশ হবে।”
সভা মঞ্চ থেকে রাজ্যের শাসকদলকে উৎখাতের ডাক দিয়ে স্লোগান তুলেছেন, “তোলাবাজ ভাইপো হঠাও।”

গত লোকসভা ভোটেও শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের প্রধানতম সৈনিক। কিন্তু আজ থেকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনিই যে হতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রীর প্রধান অন্তরায় তা শুভেন্দুর আক্রমণাত্মক বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার। শুভেন্দুর দলত্যাগ করলেনই সাথে টালমাটাল করলেন তৃণমূলের সংগঠনিক ভিত্তিও। যার সুবিধা এবার বিজেপি পেতে চলেছে। এখন বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে এই ভাঙন তৃণমূল নেত্রী কিভাবে সামাল দেন সেটাই রাজনৈতিক মহলের কৌতুহল।

Advertisement with GNE Bangla

একই রকমের খবর

Back to top button
Use GNE Bangla App Install Now
Subscribe YouTube Channel