প্রথম পাতা ভোট বাংলা আজকের রাশিফল সকালের বাংলা কর্ম সন্ধান পশ্চিম বাংলা বাংলার জেলা ভারতবর্ষ বিশ্ব বাংলা খেল বাংলা প্রযুক্তি বাংলা বিনোদন বাংলা        লাইফস্টাইল বাংলা EXCLUSIVE বাংলা GNE TV
বিশেষ সংখ্যাভোটযুদ্ধরাজনীতিরাজ্য

বাম থেকে রাম, মূল থেকে ত্রিশূল! “খেলা হবে” আর জনগন গোল খাবে

✍️ শুভব্রত রানা: বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন স্লোগানের শব্দাবলী ‘খেলা হবে’। পক্ষ বিপক্ষের সভা স্থলে আওয়াজ উঠছে ‘খেলা হবে’। জনপ্রতিনিধির রাজনৈতিক আবেশে উদ্বাহু নৃত্যে চিৎকার ‘খেলা হবে’। খেলা হচ্ছেও। কিন্তু এই ‘খেলা হবে’ রাজনৈতিক ভাবে অনেকটা মহাভারতের ‘অশ্বত্থামা হত’র সমগোত্রীয়। ‘ইতি গজ’টা এখানেও উহ্য। আমাদের ‘অতি জনদরদী’ কেষ্ট বিষ্টুরা ‘খেলা হবে’র খেলার উপকরণটি উহ্য রাখছেন। খেলা হচ্ছে, খেলা হতে চলেছে। খেলা হচ্ছে জনগনের বিশ্বাস নিয়ে, খেলা হচ্ছে জনগনের আবেগ নিয়ে, খেলা হচ্ছে জনগনের ভরসা নিয়ে, খেলা হচ্ছে জনাদেশ নিয়ে, খেলা হচ্ছে গণতন্ত্র নিয়ে। আর খেলার প্যাচে গণতন্ত্রর ‘গনদেবতা’ দশচক্রে পঞ্চত্ত্ব প্রাপ্তি ঘটিয়ে ‘ভূত’ হচ্ছেন।

ভোট শিয়রে। তাই মঞ্চ বেঁধে, মাইক উঁচিয়ে তারস্বরে ‘ভোটের মেজাজ’ ইথারে ভাসছে। কিন্তু রামের বন্ধু শ্যাম আর যদুর বন্ধু মধু আজকাল উল্টেপাল্টে গেছে। রামের মধুদা বক্তিমে দিচ্ছেন, যদুর প্রচারে শ্যামবাবু গলাবাজি করছেন। গুলিয়ে যাচ্ছে দাদা, সব গুলিয়ে গুবলেট। মেদিনীপুরের বড়দা, হাওড়ার ছোটদার সবুজ পাঞ্জাবি ভ্যানিশ। তাই আজকাল গেরুয়া পাঞ্জাবীটাই ইস্ত্রি করে পড়ছেন। তাহলে সেই মহার্ঘ্য ‘সবুজ পাঞ্জাবি’ গেল কোথায়! হারিয়েছে? নাকি সংগোপনে ট্রাঙ্ক বন্দি? বলা যায় না, আবার যদি অন্য কোন অনুষ্ঠানে পড়তে হয়। সেও এক রহস্য। জটায়ুর ভাষায় “হাইলি সাসপিশাস”!

ছাত্র-যুব পথে নেমেছে। শিক্ষার অধিকার চাই, শিক্ষিত বেকারের চাকরি চাই, সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা চাই, পেট ভরে ভাত চাই। ব্যাটারা বড় দুষ্টু। শুধু চাই আর চাই। এত দেওয়া হচ্ছে তাও হাভাতে গুলোর খাই মেটে না। সাইকেল দেওয়া হচ্ছে, ক্লাবগুলোকে মোচ্ছব করতে টাকা দেওয়া হচ্ছে, মেলা হচ্ছে, খেলা হচ্ছে তাও ওদের চাই। রাস্তায় নেমে উৎপাত করছিল তাই পুলিশ কাকুরা অল্প বকে দু’ঘা দিয়ে একটু আদর করে দিয়েছে। অমনি ফাটা কাঁসার মতো গেল গেল রব তুলেছে। একজন মরেছে তো কি হয়েছে! ওগুলো ‘পেটি ম্যাটার’! বলা হচ্ছে চাকরি হবে। কিন্তু এত দেমাক মুখের উপর বলছে আগে দোষীদের শাস্তি চাই।

কয়লা কান্ডে ‘লালা’গোপালের সাথে ‘ভাইপোর’ নাম জড়াচ্ছে। শান্ত শিষ্ট ‘বোনঝি’কে কাস্টমস ধরছে। সব প্রতিহিংসার রাজনীতি। ‘সারদা’ ‘নারদা’ হয়েছে। বাংলার ‘পিকাসো’ কোটিতে ছবি বেচেছে। নব্য ‘সুকুমারী’র ‘ননসেন্স’ কবিতা কচি কাঁচারা আবৃত্তি করছে। স্থানে-কুস্থানে, জনালয়ে-শৌচালয়ে রবি ঠাকুর গাইছে। সেই সব সহ্য হচ্ছে না শুধুই হইচই করছে। অশিক্ষিত অসাংস্কৃতিক গোমূখ্য যত সব।

আবার ঐদিকে জংলী কুড়মিগুলো সব খেউর শুরু করেছে। একটা আটধা না, দফা দফা দাবি। হ্যানা দাও, ত্যানা দাও। কুড়মি মঞ্চ বানাচ্ছে, অনশন করছে। চাক্কা জ্যাম করছে। না, পাত্তা দেওয়া হয়নি। এবার বলে কিনা ভোটে দাঁড়াবে। কে তোদের চেনে রে! জঙ্গলের খবর জঙ্গলেই থাকবে। কলকাত্তাইয়া বাবুদের দায় পড়েছে তাদের হুক্কা হুয়া শুনতে। আমপানে টাকা পাচ্ছে, সব বাবার ভাগ্য ভালো। কি হয়েছে কিছু বাচ্চা ছেলে একটু ফিস্টি করবে বলে ভাগ নিয়েছে তো! হইহই করে উঠেছে সব দুর্নীতি দুর্নীতি করে। নেমকহারাম। আরে বাবা মঞ্চে ‘খোকাবাবু’দের আনছি, ‘ভোট মামনি’দের আনছি। মাচায় দেখলে তো পয়সা দিতে হত। এখন বিনি পয়সায় দেখবি, হাততালি দিবি, চলে যাবি।

দেশপ্রেম দেশপ্রেম। সব দেশপ্রেম ভুলেছে। সেনাকে সন্মান করতে শিখতে হবে। ‘গোমতা’র সুযোগ্য সন্তানেরা সব জাতীয়তাবাদের পাঠ পড়াচ্ছেন তা না শুনে কটা ‘হাভাতে চাষা’ মরেছে তাই নিয়ে হল্লা করছে। বলে কিনা বীজের দাম বেড়েছে, সারের দাম বেড়েছে। আরে ভাই আসছে তো কৃষি আইন। তাও চাইনা। শুধু আন্দোলন। কাজ কর্ম নেই সব ‘আন্দোলনজীবী’র দল। বিয়াল্লিশ ইঞ্চির ছাতিতে সব আটকে যাবে। হিন্দুর মেয়ে বলে কিনা প্রেম করবে, তাও আবার ‘নিষিদ্ধ মাংস’ যারা খায় তাদের সাথে। সব লাভ জেহাদ। দেওয়া হচ্ছে আইন এনে। এরা সব চুমু খাবে, হামি খাবে, বিয়ে না করে একসাথে থাকবে।

সরস্বতী পুজোয় জোড়ায় জোড়ায় হাত ধরে হাঁটবে। সব অনাচারী, অপসংস্কৃতির দল। না পড়েছে ধর্মগ্রন্থ, না জানে ‘হিন্দুত্ব’। সব ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করা হবে। ‘বজরঙ্গি’রা আছে না। এদের শিক্ষায় সব ফাঁকি। সব ভুল ইতিহাস জানে। এবার ঠিকটা পড়ানো হবে। পাঠ্য পুস্তক বদলানো হবে, স্টেশনের নাম বদলে যাবে, মন্দির-মসজিদ তৈরি হবে। তাতেও না শিখলে ‘তোতা কাহিনী’র তোতার মত গেলানো হবে। তবে শেখানোই হবে। হিন্দুরা সব রসাতলে যাচ্ছে। এরা জানাই না এরা সব সংকটে। সিএএ-এনআরসি দেওয়া হল। কোথায় নৃত্য করবে তা না বিক্ষোভ আন্দোলন। কি একটা রোগ এলো সব টালমাটাল হল। কি হয়েছে এত দিন লকডাউন তো! বলে কিনা খাবার নেই। আরে ভাই দেশ সংকটে একটু না খেয়ে থাকবি। বলে কিনা বড়লোকদের রোগ। স্পেশাল প্লেন পাঠিয়ে বিদেশ থেকে সব দেশে ফেরানো হল। তারপর আবার নতুন উৎপাত। পরিযায়ী শ্রমিক। ব্যাটাদের সব কড়া জান। একটু নাহয় হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি গেল। আমাদের হচ্ছে যোগের দেশ। কেমন বিনি পয়সায় ব্যায়ামের ব্যবস্থা করা হল একটু হাঁটিয়ে, কোথায় ধন্যবাদ দেবে তা না গেল গেল রব তুলল। দেওয়া হল সব চাল ডাল। বলে কাজ চাই। আরে আমাদের দেশের ‘গরিব’ শিল্পপতিগুলো কি ব্যবসা করবে না!

তাইতো বলছি ডিজিটাল ইন্ডিয়া করা হচ্ছে সব বাড়িতে বসে ‘ফেল কড়ি, মাখো তেল’। এখন আবার অর্থনীতি অর্থনীতি করে লাফাচ্ছে। দেশ নাকি রসাতলে যাচ্ছে। ঐ দেখেনে, আম্বানি দাদা বিশ্বের সেরা ধনীদের লিস্টিতে। তার বেলা! না হয় গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেলের দাম একটু বাড়ছে। তাই নিয়েও হল্লা। দিশা রবি ‘টুলকিট’ শেয়ার করেছে তাই গ্রেপ্তার। ঐ সাংবাদিক কাপ্পান সিদ্দিকি খবর করে ‘ঝামেলা’ পাকাতে এসেছিল, তাই গ্রেপ্তার। বলে কিনা ‘নাৎসি’ শাসন। স্পর্ধা কি করে হয়। হিন্দুদের ‘শিক্ষিত’ করে ‘হিন্দুত্ব’ নিয়ে ‘রাম রাজ্য’ প্ৰতিষ্ঠা হবে। তারপর ঠেলা বুঝবে। ভারতের ‘মুক্তি সূর্য’ চোখ মেলেছেন, ‘আচ্ছে দিন’ দোরগোড়ায় এল বলে।

দেশে অনাচার চলছে। রাজ্যে অনাচার চলছে। আর তাত্ত্বিক বুদ্ধিজীবী প্রশ্ন করলেই গাল দিচ্ছে। না হয়, গেল নির্বাচনগুলোতে ভোটে কমেছে। তাতে কি, জোটে তো আছে! কিছু বললেই চৌত্রিশ বছরের দুয়ো দিচ্ছে। না হয় মঞ্চে নেই, কিন্তু ধর্ণা মঞ্চে উপস্থিত। জনগনের ‘মাঠে’ নেই, কিন্তু মিডিয়ার স্টুডিওর ‘ঘাটে’ তো আছে। না হয় নেতাই-নন্দীগ্রাম হয়েছে। ছোট্ট ভুল হয়েছে। ‘মানুষ’ ভুল ‘বুঝেছেন’। ঠিকটা ‘বোঝাতে’ হবে। ‘শুদ্ধিকরন’ তো চলছে।

তাই বলছি দাদা। মিছেই কপাল কুঁকড়ে ভাবছেন। ‘খেলা হবে’! কোন দর্শক নেই। এবার সবাই খেলোয়াড়। ‘জনদরদী’ ‘জননেতা’রা খেলবেন। ‘গণতন্ত্র’, ‘জনদেশ’, ‘উন্নয়ন’, ‘আচ্ছে দিন’, ‘সোনার বাংলা’ নিয়ে ড্রিবল হবে। ‘গন্ডমূর্খ’ জনগন গোলের পর গোল খাবে আর অম্লান বদনে হজম করবে।

Advertisement with GNE Bangla

একই রকমের খবর

Back to top button
Use GNE Bangla App Install Now
Subscribe YouTube Channel